এশিয়ান গেমসে এবার থাকছে না কোনো অ্যাথলেটস ভিলেজ। খরচ কমাতে জাপানের নাগোয়া ও আইচিতে অনুষ্ঠেয় আসরে ১৭ হাজারের বেশি অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা থাকবেন ক্রুজ জাহাজ, হোটেল এবং শিপিং কনটেইনারের আদলে তৈরি অস্থায়ী আবাসনে।
নতুন এই ব্যবস্থায় অ্যাথলেটরা যেন মানসিকভাবে অস্বস্তিতে না পড়েন, সে জন্য আগেভাগেই অভিনব প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত হবে এশিয়ান গেমস। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাঠ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ইউনিটে থাকবেন প্রায় ২ হাজার অংশগ্রহণকারী। জাপানে যাওয়ার আগে ভারতীয় অ্যাথলেটদের এসব আবাসনের সঙ্গে পরিচিত করাতে পাটিয়ালা ও বেঙ্গালুরুতে একই ধরনের কনটেইনার ইউনিট তৈরি করেছে দেশটির স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এসএআই)।
অ্যাথলেটরা জাপানে যাওয়ার আগে এসব ইউনিটে এক বা দুই রাত করে থাকবেন। এএফপিকে এসএআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল বিনীত কুমার বলেন, ‘এটি একটি অনন্য ধারণা, কারণ এশিয়ান গেমস বা অলিম্পিকে আগে কখনো এ ধরনের আবাসন ব্যবহার করা হয়নি। তাই আমরা বিশেষভাবে এটি তৈরি করেছি, যাতে জাপানে এমন আবাসন পাওয়ার পর আমাদের অ্যাথলেটরা যেন ধাক্কা না খান এবং ক্লস্ট্রোফোবিয়ায় না ভোগেন।’
ভারতে তৈরি প্রতিটি কনটেইনারের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট (১২ মিটার) এবং প্রস্থ ৮ ফুট। চারটি বিছানা, দুটি এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, স্টোরেজ টেবিল, টয়লেট, ওয়াশরুম ও ওয়াশিং মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে সেখানে। জাপানের অস্থায়ী কেবিনেও একই ধরনের সুবিধা থাকবে।
অ্যাথলেটদের মানসিক প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে কুমার বলেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের মানসিক শক্তি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এ ধরনের লজিস্টিক ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা হলে তার প্রতিযোগিতার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা সেটিই বিবেচনায় নিয়েছি।’
এই উদ্যোগের অভিজ্ঞতা হয়েছে দুইবারের এশিয়ান গেমস শটপুট চ্যাম্পিয়ন তাজিন্দরপাল সিং তুরের। ১.৯২ মিটার উচ্চতার এই অ্যাথলেটের কাছে শুরুতে কনটেইনারটি কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হলেও এক রাত থাকার পরই তিনি মানিয়ে নেন। তুর বলেন, ‘শুরুতে বিষয়টি কিছুটা অস্বস্তিকর ছিল। তবে এক রাত থাকার পর আমি স্বচ্ছন্দ হয়ে গেছি, কারণ আমার প্রয়োজনীয় সবকিছুই এখানে রয়েছে।’
তুর আরও যোগ করেন, ‘টোকিও ও প্যারিস (অলিম্পিক) গেমসের কক্ষগুলোও খুব বড় ছিল না। এটি অবশ্য একটি ছোট কিউবিকলের মতো, তবে ঠিক আছে।’