হোম > খেলা > অন্য খেলা

এশিয়ান গেমস ২০২৬

বাংলাদেশের প্রস্তুতি যেমনই হোক , কর্মকর্তায় বহর ভারী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

জাপানে হতে যাচ্ছে এবারের এশিয়ান গেমস। ছবি: সংগৃহীত

এক মাসও বাকি নেই। ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শুরু হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশের পতাকা উড়বে ২২টি ডিসিপ্লিনে। আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফেন্সিং, ফুটবল, হকি, কাবাডি, কারাতে, টেবিল টেনিস, সাঁতার, সার্ফিং, শুটিং, ভারোত্তোলন, কুস্তি, উশু, গলফ, জিমন্যাস্টিকস, জুডো ও বিচ ভলিবল—তালিকা বেশ লম্বা। তালিকা লম্বা হলেও কতটা প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছে তারা?

কয়েকটি ডিসিপ্লিন নিয়মিত অনুশীলন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করছে, আবার কিছু ডিসিপ্লিন শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে গত ২৩ আগস্ট সংশ্লিষ্ট ২২ ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠকও করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

প্রস্তুতির অসম চিত্রের পেছনে অর্থের সংকট বড় কারণ। কয়েকটি ফেডারেশন প্রয়োজনীয় অর্থের অপেক্ষায় থাকায় নিয়মিত ক্যাম্প, বিদেশে প্রশিক্ষণ কিংবা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ সব ডিসিপ্লিনে সমান হয়নি। ফলে এশিয়ান গেমসের আগে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির পাশাপাশি ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দল নির্বাচন ও কর্মকর্তা পাঠানো নিয়ে বিতর্ক। ২৯০ সদস্যের জাপানগামী বহরের সরকারি আদেশের (জিও) তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে, কয়েকজন ক্রীড়া কর্মকর্তাকে কোচ পরিচয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের কারও কারও সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

হকি পুরুষ দলের কোচ হিসেবে তালিকায় নাম এসেছে হকি ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক ফুটবলার মিজানুর রহমান ডনের। হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান প্রিন্স অবশ্য দাবি করেছেন, ভুলবশত তাঁকে কোচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি যাবেন সহকারী ম্যানেজার হিসেবে। বিতর্কটি শুধু তাঁকে ঘিরে নয়; জিও তালিকায় ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসিবুর রহমান, জুডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নয়না চৌধুরী ও উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলুকে কোচ হিসেবে দেখানো হয়েছে। টেবিল টেনিস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মোহসিনুল আলমও যাচ্ছেন কোচ পরিচয়ে। অথচ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করছেন অভিজ্ঞ কোচ মোহাম্মদ আলী। কুস্তিতে কোচ করা হয়েছে অ্যামেচার কুস্তি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক শিরিন সুলতানাকে। সাবেক রাইফেল শুটার ও শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক শারমিন আক্তার রত্নাকে করা হয়েছে পিস্তল কোচ। সার্ফিংয়ের মূল কোচ রাশেদকে বাদ দিয়ে কোচ পরিচয়ে যাচ্ছেন অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ সাইফুল্লাহ সিফাত।

জাপানগামী বহরে কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ১৫ জন অফিশিয়ালকে এনওসি ডেলিগেট করেছে। এর বাইরে সরকার সম্প্রতি ২৭টি ফেডারেশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি করায় শেষ মুহূর্তে বহরের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ২৬ জন। তাঁদের ২৫ জনই কর্মকর্তা, খেলোয়াড় একজন—হকি খেলোয়াড় রাসেল মাহমুদ জিমি। নতুন কর্মকর্তাদের জায়গা করে দিতে অনেক কোচের নাম বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সব ডিসিপ্লিনের প্রস্তুতির চিত্র এমন নয়; হকির প্রস্তুতি এগিয়ে। এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও শক্তিমত্তা যাচাই করতে আজ চীন সফরে যাচ্ছে জাতীয় হকি দল। সেখানে ছয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।

আর্চারিতেও আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভুটানের দলকে ঢাকায় এনে অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। অ্যাথলেটিকসে বাংলাদেশের বড় ভরসা ইমরানুর রহমান ও স্বপ্না রানী। তাঁদের ঘিরে পদকের আশাও আছে।

ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী দল জাতীয় দলের কাঠামো থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুরুষ ক্রিকেট দল সরাসরি নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশ সোনা জিতেছে ক্রিকেটে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন দল নিয়ে বলেন, ‘ভারত-শীলঙ্কা শক্তিশালী দল দিয়েছে। আমরাও সেভাবে দল সাজিয়েছি।’

নারী ফুটবলের প্রস্তুতি অনেকটা গুছিয়ে আনা হয়েছে। তবে পদকের আশা করছেন না কোচ পিটার বাটলার। বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমার। চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বাটলার বলেন, ‘আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমরা এখনো পদক জয়ের মতো স্তরে পৌঁছাইনি।’

এশিয়ান গেমসের মতো আসরে কতগুলো ডিসিপ্লিনে অংশ নেওয়া হচ্ছে; তার চেয়ে প্রতিটি ডিসিপ্লিন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছে, সেটি বড় প্রশ্ন।