ভোরে যখন খবরটা এল, ভারতের গোয়ায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ক্যাম্পে নেমে এল এক ভারী স্তব্ধতা। ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের মা পাড়ি দিয়েছেন না ফেরার দেশে। শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়েছে মাঠের অনুশীলন। ফুটবলের পেশাদার ও রূঢ় বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে শোকের মাঝেই আজ ফাইনালের টিকিট কাটার ছক কষতে হচ্ছে দলকে। সাফে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে গোয়ার জওহরলাল স্টেডিয়ামে নেপালের মুখোমুখি হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়।
মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করাই এখন কোচ পিটার জেমস বাটলারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ মুহূর্তের মাঠের অনুশীলন না হওয়াটাকে দলের জন্য বড় কোনো নেতিবাচক বিষয় হিসেবে দেখতে নারাজ বাটলার। ভিনদেশি সংস্কৃতি হলেও পরিস্থিতির গভীরতা বুঝে তিনি বলেন, ‘যখন আপনি কোনো টুর্নামেন্টের এমন পর্যায়ে থাকবেন, তখন মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত অনুশীলন হয়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি থাকে। তাই আমার মনে হয় না এর কোনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মানসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
মাঠের অনুশীলনের বিকল্প হিসেবে দল গতকাল থেকেই নিজেদের কৌশলগত বিশ্লেষণ এবং মানসিক সতেজতার ওপর জোর দিচ্ছে। বল পায়ে কোনো পাসিং বা ড্রিবলিং সেশন না হলেও ফুটবলারদের প্রস্তুত রাখতে ভিডিও অ্যানালাইসিসের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে। কোচ বলেন, ‘প্রস্তুতির দিক থেকে দেখলে, আমি মনে করি আমাদের হাতে থাকা সুবিধাগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে; যেমন ভিডিও অ্যানালাইসিস বা এখানকার চারপাশের পরিবেশ, যা বেশ সতেজ। আমরা গতকাল বিকেলে হাঁটতেও বেরিয়েছিলাম। ফুটবলে একটা কিকও করিনি ঠিকই, তবে আমার মনে হয় না এটা আমাদের জন্য কোনো অসুবিধা তৈরি করবে।’
সেমিফাইনালে কোনো রক্ষণাত্মক ফুটবল নয়, বরং শুরু থেকেই জয় তুলে নেওয়ার আগ্রাসী মানসিকতা স্পষ্ট বাটলারের কণ্ঠে, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাঙ্ক্ষিত ফলাফল, জয় তুলে আনা। আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না, জয়ের জন্যই ঝাঁপাব। কোনো চেষ্টার ত্রুটি রাখব না এবং একটি ইতিবাচক ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামব।’
গত দুই আসরে নেপালকে ফাইনালে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও দেখা হচ্ছে সেমিফাইনালেই। প্রতিপক্ষ নিয়ে যথেষ্ট ‘হোমওয়ার্ক’ করা থাকলেও বাটলারের পুরো মনোযোগ এখন নিজের দলের পারফরম্যান্সের ওপর। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও নেপালের বিপক্ষে খেলেছি। অনূর্ধ্ব-২০ দলেও তাদের বিপক্ষে খেলা হয়েছে। আমি তাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে চিনি। তারা কীভাবে খেলে তা আমি দেখেছি, আমরা আমাদের হোমওয়ার্কও সেরে রেখেছি। তবে সত্যি বলতে, আমি নেপালকে নিয়ে চিন্তিত নই। আমার মনে হয় বিষয়টা হলো... আমাদের নিজেদের খেলার মান বাড়াতে হবে। আমাদের মাঠে পারফর্ম করতে হবে।’
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাচের নির্দিষ্ট সময়ে দলের চেনা ছন্দের ওপর ভরসা রাখছেন কোচ, ‘আমরা মাঝেমধ্যেই দারুণ খেলেছি। কখনো কখনো, যেমন দ্বিতীয়ার্ধের ২০-২৫ মিনিট বা ৪৫ মিনিট আমরা সত্যিই অসাধারণ খেলেছি। আমাদের অবশ্যই ইতিবাচক থাকতে হবে এবং এমন একটি ছকে এগিয়ে যেতে হবে যেন আমরা মাঠে গিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারি। যদি-কিন্তু ভেবে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই।’