ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ডের সঙ্গে এবার যুক্ত হলো ব্ল্যাক কার্ড। তবে এটি খেলোয়াড়দের জন্য নয়; যুব ফুটবলের ম্যাচে অভিভাবক ও দর্শকদের অসদাচরণ নিয়ন্ত্রণে এই কার্ড চালু করেছে রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন।
নতুন নিয়মটি ১১ সেপ্টেম্বর অনুমোদন করা হয়েছে এবং চলতি মৌসুম থেকেই ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় কার্যকর হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য, গ্যালারি থেকে আসা গালিগালাজ, হুমকি, শারীরিক আগ্রাসন ও অতিরিক্ত চাপ থেকে শিশু খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দেওয়া।
রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের মতে, শিশুদের ফুটবল হওয়া উচিত আনন্দ ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জায়গা। সেই লক্ষ্যেই অভিভাবক ও দর্শকদের আচরণের সীমা নির্ধারণে এই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ম্যাচে দর্শক বা অভিভাবকদের আচরণ অনুপযুক্ত মনে হলে রেফারি প্রথমে দুই দলের কোচকে গ্যালারির দর্শকদের সতর্ক করতে বলবেন। লাউডস্পিকারের মাধ্যমেও সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। আচরণ অব্যাহত থাকলে ম্যাচ ১০ মিনিটের জন্য স্থগিত করা হবে এবং দুই দলকে ড্রেসিংরুমে পাঠানো হবে।
খেলা পুনরায় শুরুর পরও একই ধরনের আচরণ হলে শেষ পর্যন্ত রেফারি দেখাবেন ব্ল্যাক কার্ড। আর এই কার্ড দেখানোর অর্থ হলো ম্যাচ সেখানেই স্থায়ীভাবে শেষ। ম্যাচটি আর পুনরায় শুরু করা যাবে না।
ফেডারেশনের প্রটোকলে বলা হয়েছে, ‘খেলা পুনরায় শুরুর পরও যদি আপত্তিকর আচরণ অব্যাহত থাকে, রেফারি ম্যাচ শেষ করার জন্য বাঁশি বাজাবেন। ম্যাচটি চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং আর পুনরায় শুরু করা যাবে না।’
নতুন নিয়মে গালিগালাজ ও অপমানজনক মন্তব্যের পাশাপাশি শিশু খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় বা স্টাফকে আঘাত, ধাক্কা কিংবা অপমান করাও শাস্তিযোগ্য আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। রেফারি ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বারবার বিবাদে জড়ানো এবং অভিভাবক বা দর্শকদের মধ্যে মৌখিক কিংবা শারীরিক সংঘর্ষও এর আওতায় রয়েছে।
রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের এই উদ্যোগের মূল বার্তা পরিষ্কার—গ্যালারিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, চাপ কিংবা হতাশার বোঝা শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। যুব ফুটবলকে নিরাপদ ও আনন্দময় রাখতে সেই সীমা অতিক্রম করলেই এবার ম্যাচ থামিয়ে দেবে ব্ল্যাক কার্ড।