ফুটবলে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে নেইমারের বড় ভূমিকা ছিল বলে জানালেন ফিলিপ কুতিনিও। দীর্ঘ বিরতির পর ব্রাজিলিয়ান এই তারকা সান্তোসে যোগ দিয়েছেন। চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে খেলবেন তিনি।
ভাস্কো দা গামা ছাড়ার পর গত ফেব্রুয়ারি থেকে কোনো ক্লাবে ছিলেন না কুতিনিও। মানসিক ক্লান্তির কারণে তখন ফুটবল থেকে দূরে সরে যান তিনি। সেই সময় থেকেই তাঁকে আবার মাঠে ফেরানোর চেষ্টা করেন শৈশবের বন্ধু নেইমার।
নেইমারের সঙ্গে একই ক্লাবে খেলার সুযোগও কুতিনিওর সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আসার ক্ষেত্রে নেইমার অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ও এমন একজন খেলোয়াড়, যার পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ছোটবেলা থেকেই সে আমার বন্ধু। ভাস্কো ছাড়ার পর ফুটবল অঙ্গনে প্রথম যে ব্যক্তি আমাকে বার্তা পাঠিয়েছিল, আমার মনে হয় সে-ই।’
নেইমার প্রথমবার যোগাযোগ করার সময় সান্তোসে যাওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কুতিনিও। তখন মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় ছিলেন না তিনি, ‘পরদিনই সে আমাকে মেসেজ করেছিল। কিন্তু তখন আমি বলেছিলাম, ‘দেখো নেই, তোমার সঙ্গে খেলতে পারলে আনন্দিত হতাম, কিন্তু এই মুহূর্তে আমি ভালো বোধ করছি না, এটা সম্ভব নয়।’ সত্যিই তখন আমার কাছে বিষয়টি অর্থপূর্ণ মনে হয়নি।’
তবে নেইমার চেষ্টা চালিয়ে যান। কয়েক মাস পর আবার কুতিনিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এরপর দুই সপ্তাহ আগে আরও একটি বার্তা পাঠান। এবার নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ভাবেন কুতিনিও।
কুতিনিও বলেন, ‘কয়েক মাস পর সে আবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু আমার উত্তর একই ছিল। এরপর দুই সপ্তাহ আগে সে আবার আমাকে মেসেজ পাঠাল। তখন আমি থামলাম, নতুন করে ভাবলাম। আমি আবার ফুটবল খেলতে চেয়েছিলাম এবং ভাবলাম, ‘কেন নয়?’ আমি একটি বড় ক্লাবে যাচ্ছি, অন্য একটি শহরে। আবার কাজে ফিরতে না পারা, আবার ফুটবল খেলতে না পারা নিজের প্রতিই অন্যায় হতো।’
সান্তোসে ১১ নম্বর জার্সি পরবেন কুতিনিও। আগামী বছর কী হবে, সে বিষয়ে এখনই ভাবতে চান না এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার, ‘চুক্তিতে যা প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেটিই রয়েছে। আমি সেটি গ্রহণ করে এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অবশ্যই নেইমারের সঙ্গে খেলা অনেক বড় একটি বিষয়।’
ভবিষ্যৎ নিয়ে কুতিনিও আরও বলেন, ‘আগামী বছর কী হবে, এখন আমি কিছুই বলতে পারছি না। আমি জানি না তখন পরিস্থিতি কেমন হবে। আমি শুধু বলতে পারি, প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে কাজ করতে, নিজের সেরাটা দিতে এবং এই তিন মাসে ভালো পারফর্ম করতে আমি এখানে এসেছি। আগামী বছর কী হতে পারে, তখন দেখা যাবে।’