ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণভাগ যখন চেনা ছন্দে ডানা মেলে, তখন প্রতিপক্ষের ডাগআউটে স্বস্তি থাকার কথা নয়। লামিনে ইয়ামালের পায়ের জাদু আর রদ্রি-পেদ্রিদের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে থাকা স্পেনের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে যেকোনো দলেরই একটু কেঁপে ওঠার কথা। উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে যেভাবে ‘লা রোহা’রা শাসন করেছে, তাতে আজ রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচে অনেকেই হয়তো অস্ট্রিয়ার কোনো সুযোগই দেখছেন না।
খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো দলগুলোই অনেক সময় সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কাগজে-কলমে হয়তো স্পেনই যোজন যোজন এগিয়ে, কিন্তু নকআউটের এই মঞ্চে ফেবারিটের তকমা যে কত দ্রুত অর্থহীন হয়ে যেতে পারে, তা দেখা গেছে অনেকবার। স্পেন সেটা ভালোভাবেই বোঝে।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা স্প্যানিশরা অবশ্য চেনা রূপে ফিরতে বেশি সময় নেয়নি। ইয়ামালের জাদুকরি পায়ের ছোঁয়ায় সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পরই মূলত তাদের আক্রমণভাগ আসল ধার ফিরে পায়। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়টি তাদের এনে দেয় গ্রুপ ‘এইচের’ শীর্ষ স্থান।
মাঠের সেই তুমুল লড়াই প্রসঙ্গে পাউ কুবারসি বলেন, ‘আমরা নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাসী। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি একটি যুদ্ধ ছিল, তবে এটি আমাদের এই আত্মবিশ্বাসও দিয়েছে যে আমরা লড়াই করতে জানি। আমাদের ভেতরে সেই লড়াকু মানসিকতা আছে, আর আমার মনে হয়, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
অস্ট্রিয়ার এই পর্যন্ত আসার গল্পটা যেন কোনো রোমাঞ্চকর উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা। জর্ডানকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ গোলের হারে এক ধাক্কায় মাটিতে আছড়ে পড়েছিল তারা। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল এক অবিশ্বাস্য নাটকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সাশা কালাইদজিচের সেই সমতাসূচক গোল অস্ট্রিয়াকে এনে দিয়েছে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ।
তবে নকআউটের কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের শক্তি খুব একটা ভাবছেন না অস্ট্রিয়ান অধিনায়ক ডেভিড আলাবা। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই ধরনের ম্যাচের জন্যই তো স্বপ্ন বুনেছেন তিনি। নিজের রোমাঞ্চ লুকিয়ে না রেখে আলাবা বলেন, ‘টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট তো আর আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। তা ছাড়া বিশ্বকাপে আপনি আসেনই এই ধরনের ম্যাচ খেলার জন্য। এই প্রতিযোগিতায় আপনাকে কেবল সেরা দলগুলোরই মুখোমুখি হতে হবে এবং আপনি যত সামনে এগোবেন, প্রতিপক্ষ তত কঠিন হবে। আমরা এই ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছি; আমরা শতভাগ অনুপ্রাণিত এবং জয়ের উদ্দেশ্য নিয়েই মাঠে নামব। আমরা জানি আমাদের সেরা ফর্মে থাকতে হবে এবং এটি একটি অত্যন্ত কঠিন লড়াই, তবে ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব।’
দুই দলের দ্বৈরথে স্পেনের আধিপত্যই চোখে পড়বে। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৬ বারের মুখোমুখি দেখায় স্প্যানিশরা জিতেছে ৯ ম্যাচে। বিপরীতে অস্ট্রিয়ার জয় চারটিতে, আর বাকি ৩ ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। তবে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে একমাত্র দেখায় অস্ট্রিয়া ২-১ ব্যবধানে জিতে স্তব্ধ করে দিয়েছিল স্পেনকে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের এই ম্যাচ তাই স্পেনের জন্য যেমন পুরোনো হিসাব চুকানোর মঞ্চ, অস্ট্রিয়ার জন্য তেমনি চার দশক আগের সেই গৌরবের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর হাতছানি।