হোম > খেলা > ফুটবল

উজবেকিস্তান পরীক্ষায় বাংলাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

মাঠে নামার আগে কোচের সঙ্গে ফুটবলারদের পরামর্শ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে যে দিতে হবে নিজেদের সেরাটাই। ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন ছিল, দলের ভেতরের অস্বস্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যেই অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৮টায় তাসখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি। কঠিন এই পরীক্ষার আগে অবশ্য নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ কোচ জেরার্ড জোন্স।

ভারত ও সিরিয়ার মতো দল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেলেও বাংলাদেশ তা পায়নি। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পরিকল্পনাও ভেস্তে যায় ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায়। পরে বিকল্প প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেই প্রস্তুতি সারতে হয়েছে দলকে। মোট ১০টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ, যার ৪টি নিজেদের মধ্যে এবং ৬টি ছিল বাইরের দলের বিপক্ষে।

জেরার্ড বলেন, ‘যদিও আমরা কোনো আন্তর্জাতিক জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাইনি; মূলত আমাদের পরিকল্পনা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলার, যা আমাদের চমৎকার একটি প্রস্তুতি দিত। শক্তিশালী দলের বিপক্ষে যেসব পরিস্থিতির মুখে আমাদের পড়তে হতে পারে, অনুশীলনে আমরা সে রকম বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে কাটিয়ে উঠেছি।’

উজবেকিস্তানের বিপক্ষেও তাই ভয় নয়, নিজেদের খেলার ওপর আস্থা রাখছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের প্রতিটি ম্যাচ বিশ্লেষণ করেছে কোচিং স্টাফ। বল দখল, কাউন্টার-প্রেসিং ও হাই প্রেসিংয়ে উজবেকদের শক্তির পাশাপাশি তাদের দুর্বলতাও খুঁজে বের করা হয়েছে। জেরার্ড বলেন, ‘উজবেকিস্তান সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল এবং তাদের খেলা সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ভালো রাখতে পারে, দ্রুত কাউন্টার-প্রেস করে এবং হাই প্রেসিং ফুটবলে অভ্যস্ত। তবে তাদের দুর্বলতার দিকগুলোও আমাদের জানা এবং আমরা সেগুলোর সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।’

প্রস্তুতির জন্য দলের বিপক্ষে ছয় ম্যাচ খেলে অপরাজিত থাকাও আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে কোচের, ‘আমি মনে করি প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে। এটি কেবল আমার ব্যক্তিগত মতামত নয়, একটি সত্য। কারণ ছয়টি বাইরের ম্যাচে আমরা অপরাজিত ছিলাম।’

তবে মাঠের বাইরের অস্বস্তিও আছে বাংলাদেশ শিবিরে। প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর হাতাহাতি এবং এরপর দুজনের দূরত্ব নিয়ে দেশ ছাড়ার আগে আলোচনা হয়েছিল। ম্যানেজার সামিদ কাশেম জানিয়েছেন, বিবাদ ভুলে সবাই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।

কন্ডিশনও বাংলাদেশের জন্য নতুন। তাসখন্দে বাংলাদেশের মতো আর্দ্রতা নেই, রোদের তাপ বেশি। ম্যাচের সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনুশীলনের সময়ও সেভাবেই নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়েও আশাবাদী জেরার্ড, ‘আবহাওয়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে খেলোয়াড়দের আমরা সেরা সুযোগটি বানিয়ে দিয়েছি। এ দিক থেকে প্রতিপক্ষ কোনো বাড়তি সুবিধা পাবে না।’

সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বাছাইপর্ব। জেরার্ড অবশ্য ফলের আগে দলের পারফরম্যান্সেই জোর দিচ্ছেন। তাঁর প্রত্যাশা, ‘এই দলটি নিয়ে আমি ভীষণ আত্মবিশ্বাসী; আমরা চমৎকার পারফরম্যান্স উপহার দেব, দলের মানসিকতা ফুটিয়ে তুলব এবং দেশবাসীকে আমাদের আসল সামর্থ্য দেখাব—এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

বাংলাদেশের গ্রুপে আরও রয়েছে ভারত ও সিরিয়া। ৮ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা ৭ রানার্সআপ সরাসরি সুযোগ পাবে মূল পর্বে। ২০০২ সালের পর আর টুর্নামেন্টের মূল পর্বে খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। গত এপ্রিলে ভারতকে হারিয়েই অনূর্ধ্ব-২০ সাফের পুরস্কার জেতে বাংলাদেশ। সেই টুর্নামেন্টের পর কোচিং স্টাফ থেকে বদলে গেছে অনেক কিছুই।