বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফুটবল দল যার যার দেশে ফিরেছে। তবে ফাইনালের আগমুহূর্তে কী কী ঘটেছে, তা নিয়ে এখনো চলছে আলোচনা। এবার জানা গেল স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নামার আগে সতীর্থদের দেওয়া লিওনেল মেসির এক বিশেষ উপহার সম্পর্কে।
ফাইনালের আগে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে মেসি এক ভাইরাল বক্তব্য নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে গত কয়েক দিন। এবার আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসির প্রেমিকা কেলসি-রোজ বোয়ার্স জানিয়েছেন সতীর্থদের কী উপহার দিয়েছিলেন মেসি। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে বোয়ার্স দেখিয়েছেন, মেসির উপহার দেওয়া বাদামি রঙের ব্যাগের ওপর ছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) লোগো। সেটার ওপরে লেখা ‘মার্কোস সেনেসি’।
মেসির মতো তারকা ফুটবলারের কাছ থেকে উপহার পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত বোয়ার্স। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে সেনেসির প্রেমিকা বলেন, ‘আপনারা পছন্দ করবেন, এমন দারুণ কিছুই দেখাতে যাচ্ছি। কাস্টম করা ব্যাগটি মার্কোস বিশ্বকাপ শেষে নিয়ে এসেছে এবং সেখানে তার নাম লেখা। সকলকে মেসি এই উপহার দিয়েছেন।’
সেনেসিকে উপহার দেওয়া ব্যাগের ভেতরে ছিল সোনালী রঙের স্ট্যানলি থার্মোস নামে একটি থার্মাল ফ্লাস্ক। এটা মেসির নিজস্ব ব্রান্ডের তৈরি। এর সঙ্গে একটি করে কাপ এবং চামচ দেওয়া হয়। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী চা পাতার (ইয়ার্বা) প্যাকেজও ছিল সেনেসিকে উপহার দেওয়া ব্যাগে। বোয়ার্স বলেন, ‘মার্কোস এসব আমাকে নিরাপদে রাখতে দেয়। মায়ামিতে গিয়ে যাতে সেটা ফেরত দিই, সেটা বলেছিল সে (সেনেসি)।’
নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই হারের পর অঝোরে কাঁদতে থাকেন মেসি। টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতার এত কাছকাছি এসেও জিততে না পারার হতাশায় পুড়ছিলেন তিনি। তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো স্বামীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। মেসির সমর্থনে সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দিয়েছেন রোকুজ্জো।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের দুই দিন পর আর্জেন্টিনায় ফেরেন মেসি। দলের একটি বহর এক দিন আগে দেশে ফিরলেও তিনি আলাদাভাবে দেশে ফিরেছেন। রোজারিওতে অবস্থিত নিজ বাসা ছেড়ে কোথাও এত দিন যাননি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। অবশেষে গতকাল তিনি সবার সামনে এসেছেন। সন্ধ্যার সময় রোজারিওর কাছের শহর অরোইয়ো সেকোতে দেখা গেল মেসিকে। বল পায়ে কোনো জাদুকরী কিছু দেখাতে নয়। তিনি দেখেন লিওনেস এফসির ম্যাচ দেখতে।
লিওনেস এফসি মূলত মেসির পারিবারিক ক্লাব। এই ক্লাবটির সভাপতি তাঁর বড় ভাই মাতিয়াস মেসি। ক্লাবটির হোম ভেন্যু অরোইয়ো সেকোর আন্তোনিও দি জাকোমো স্টেডিয়ামেই গতকাল গেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। বর্তমানে দলটি খেলছে আর্জেন্টিনার চতুর্থ বিভাগে।
সদ্য সমাপ্ত ফুটবল বিশ্বকাপে মেসি চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও ৮ ম্যাচে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার করেছেন ১২ অ্যাসিস্ট। দিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপে ছিল ৮ অ্যাসিস্ট। সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপে ২১ গোল করে দুইয়ে মেসি। এই তালিকায় সবার ওপরে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল ২২।