হোম > খেলা > ফুটবল

ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য

ক্রীড়া ডেস্ক    

দিয়েগো ম্যারাডোনা। ফাইল ছবি

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে তাঁর শরীরে গুরুতর অসুস্থতার একাধিক ‘সতর্কতামূলক সংকেত’ দেখা দিয়েছিল। তবে সেসব লক্ষণ চিকিৎসকেরা যথাযথভাবে আমলে নেননি বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এক ফরেনসিক চিকিৎসক।

মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসের উত্তরে সান ইসিদ্রোর আদালতে ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চলমান মামলায় সাক্ষ্য দেন ফরেনসিক চিকিৎসক কার্লোস ক্যাসিনেলি। ম্যারাডোনার চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করা মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ক্যাসিনেলি জানান, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার পায়ের নিচের অংশ ও আঙুল ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ এবং অস্বাভাবিক দ্রুত হৃৎস্পন্দনের মতো গুরুতর সংকেত দেখা গিয়েছিল। আদালতে ক্যাসিনেলি বলেন, ‘ওই ফোলাভাবের কারণ কী, তা দেখতে কেউ এগিয়ে যায়নি।’

চিকিৎসকেরা এসব সতর্কতামূলক সংকেত বিবেচনায় নিলে তাঁদের চিকিৎসাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আসত বলেও মনে করেন তিনি। ক্যাসিনেলির ভাষায়, ‘আমরা মনে করি, চিকিৎসকেরা এসব সংকেত আমলে নেননি; কারণ, তাঁদের চিকিৎসার ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’

ম্যারাডোনাকে হাসপাতালে না রেখে বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্তও ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর দিনগুলোতে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটেছিল। ক্যাসিনেলি বলেন, পরিস্থিতি দেখে আগেই সতর্কবার্তা দেওয়া সম্ভব ছিল।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। এর দুই সপ্তাহ আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অস্ত্রোপচার হয়েছিল তাঁর। পরে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্‌যন্ত্রের অকার্যকারিতা ও অ্যাকিউট পালমোনারি এডিমা—ফুসফুসে তরল জমে যাওয়ার গুরুতর অবস্থা—উল্লেখ করা হয়। মৃত্যুর আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা ম্যারাডোনা তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন বলেও আদালতকে জানান ক্যাসিনেলি।

১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী ম্যারাডোনার মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পরও তাই প্রশ্নটি রয়ে গেছে—যে সংকেতগুলো তাঁর শরীর মৃত্যুর আগে দিয়েছিল, সেসবকে চিকিৎসকেরা সময়মতো গুরুত্ব দিলে কিংবদন্তির শেষটা কি অন্য রকম হতে পারত? আদালতে কার্লোস ক্যাসিনেলির বিস্ফোরক সাক্ষ্যের পর এই প্রশ্নটা উঠছেই।