হোম > খেলা > ফুটবল

পারেদেস-মোলিনার শাস্তি নিয়ে ফিফাকে একহাত নিলেন দি মারিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক    

পারেদেস-মলিনার পাশে দাঁড়ালেন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আমেরিকায় হওয়া সবশেষ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড় লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাউয়েল মলিনাকে শাস্তি দিয়েছে ফিফা। সেই শাস্তি নিয়ে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার একহাত নিলেন আনহেল দি মারিয়া।

ফাইনালের পর সংঘর্ষের ঘটনায় পারেদেসকে ১০ ম্যাচ এবং মলিনাকে ৭ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। আর্জেন্টিনার আরেক খেলোয়াড় থিয়াগো আলমাদাকে দেওয়া হয়েছে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। স্কালোনির সহকারী রবার্তো আয়ালাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তিন ম্যাচের জন্য। একই ঘটনায় স্পেনের গাভি পেয়েছেন এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।

আর্জেন্টাইন প্রিমেরা ডিভিশনে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে টালেরেসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে রোজারিও সেন্ট্রাল। দলটির হয়ে দুটি গোলই করেন দি মারিয়া। এরপর মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এই তারকা ফুটবলার। সেখানেই উঠে আসে পারেদেস-মোলিনার শাস্তির প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, এই দুই ফুটবলারকে অতিরিক্ত শাস্তি দিয়েছে ফিফা।

দি মারিয়া বলেন, ‘আমি সব সময়ই তার (পারেদেস) সঙ্গে কথা বলি। এটা অতিরঞ্জিত। নিশ্চিতভাবেই শাস্তি অনেক কম হবে। শুধু তার জন্য নয়, নাউয়েলের (মলিনা) ক্ষেত্রেও।’

খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না দি মারিয়ার কাছে, ‘এমন কিছু ঘটতেই পারে, কারণ শেষ দিকে তারা (আর্জেন্টিনার ও স্পেনের ফুটবলাররা) উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সবকিছুই বেশ অতিরঞ্জিত (ফিফার শাস্তি)।’

শুধু খেলোয়াড়দের শাস্তি দিয়েই থামেনি ফিফা। পুরো টুর্নামেন্টে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের প্রদর্শন করা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পতাকার ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ডলার যাবে বর্ণবাদবিরোধী প্রচারণায়। পাশাপাশি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ দর্শক উপস্থিত থাকতে পারবেন।

এএফএর আইনবিষয়ক উপদেষ্টা আন্দ্রেস প্যাটন উরিচ জানিয়েছেন, ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে এএফএ। বিশেষ করে পারেদেস ও মলিনার নিষেধাজ্ঞা কমানোর লক্ষ্যেই এই আপিল করা হবে।

টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উরিচ বলেন, ‘আলমাদার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই।’ তাঁর এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, বাকিদের শাস্তি অতিরিক্ত মনে করছে এএফএ।

শাস্তির মাত্রা বোঝাতে উদাহরণও দিয়েছেন উরিচ। তিনি বলেন, ‘এর উদাহরণ আছে। আপনি যদি ২০১৪ সালে লুইস সুয়ারেজের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে লিয়ান্দ্রোর নিষেধাজ্ঞার তুলনা করেন—প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় সুয়ারেজকে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আবার এক ইউরোপীয় খেলোয়াড় নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন করেও ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। আমাদের মতে, আরও গুরুতর কিছু ঘটনায় একই সংখ্যক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আমরা ভিডিওগুলো ফ্রেম ধরে ধরে দেখেছি এবং আমাদের মনে হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা আরও কম হওয়া উচিত ছিল।’