বিশ্বকাপ জিততে হলে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতেই হবে—ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর এমন বাস্তবতাই যেন সামনে তুলে ধরলেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। জয় না পেলেও তাঁর বিশ্বাস, এই ম্যাচ ইংল্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করবে।
বোস্টনে মঙ্গলবার ঘানার বিপক্ষে ৭৯ শতাংশ বলের দখল রেখে ১৯টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি ইংল্যান্ড। ফলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পর প্রত্যাশিত ছন্দ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি জুড বেলিংহাম-হ্যারি কেইনদের।
তবে হতাশার মধ্যেও ইতিবাচক দিক দেখছেন টুখেল। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এটি লম্বা সময়ের টুর্নামেন্ট। ছেলেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, সঠিক মানসিকতা ও শক্তি নিয়ে খেলেছে। সমর্থকদের আশা হারানোর কোনো কারণ নেই।’
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়ে আছে শেষ মুহূর্তের সুযোগ নষ্ট। বদলি হিসেবে নেমে নিকো ও’রাইলির হেড ক্রসবারে লাগে, ফিরতি বলে হ্যারি কেইনও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। ইংল্যান্ডের জার্মান কোচ টুখেলের মতে, ভাগ্য একটু সহায় হলে আলোচনাটাই অন্য রকম হতে পারত, ‘কেইন ১০০ বারের মধ্যে ৯৯ বার এমন সুযোগ কাজে লাগায়। সে গোল করলে হয়তো আমরা এখন ধৈর্য, শৃঙ্খলা আর ভালো পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতাম। কিন্তু ফল গোলশূন্য ড্র হওয়ায় প্রসঙ্গও বদলে গেছে।’
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও স্বীকার করেছেন, জয়ের আশা নিয়েই খেলতে নেমেছিলেন তাঁরা, ‘(ম্যাচের ফলে) অবশ্যই হতাশ। ম্যাচটা আমরা ১-০ বা ২-০ গোলে জিতেও ফিরতে পারতাম। তবে ঘানা খুব ভালোভাবে রক্ষণ সামলেছে। এখন এই এক পয়েন্ট নিয়েই সামনে তাকাতে হবে।’
এই ড্রকে ‘রিয়েলিটি চেক’ হিসেবেও দেখছেন টুখেল। তাঁর ভাষায়, ‘ঘানার মতো দলের বিপক্ষে খেলা খুব কঠিন। ফল না এলেও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের চেয়ে অনেক কিছুই ভালো ছিল। ফুটবলে দুই দলেরই ভূমিকা থাকে।’
অন্যদিকে এক পয়েন্ট পেয়ে দারুণ খুশি ঘানা। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিটের বিপক্ষে ড্র করে নকআউট পর্বের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়েছে তাদের। ঘানা দলের কোচ কার্লোস কুইরোজ বলেন, ‘ফুটবল শুধু বল দখলের খেলা নয়, সঠিক মানসিকতারও খেলা। বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার একটি দলের বিপক্ষে ড্র করেছি, তাই উদ্যাপন করাটা স্বাভাবিক।’
তবে ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়েও ক্ষোভ ঝেড়েছেন কুইরোজ। প্রিন্স কুয়াবিনা আদুর ওপর ইংল্যান্ডের এজরি কোনসার চ্যালেঞ্জে পেনাল্টি না পাওয়ায় তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘মনে হয়, ভিএআর কফি খেতে গিয়েছিল। এটা পরিষ্কার পেনাল্টি, এমনকি লাল কার্ডও হতে পারত।’
দুই ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড ও ঘানার সমান ৪ পয়েন্ট। শনিবার পানামার বিপক্ষে জিতলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করবে টুখেলের দল। তবে ঘানার বিপক্ষে এই ড্র ইংলিশদের মনে করিয়ে দিল—বিশ্বকাপ জয়ের পথ মোটেও মসৃণ নয়।