বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার সেই দুঃসহ মুহূর্ত এখনো ভুলতে পারেননি সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আবার সুযোগ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই বলেই ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া আরও কঠিন।
কানসাস সিটিতে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরেছিল সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এমবোলো। এর আগে ১-১ গোলে সমতায় ফিরেছিল সুইজারল্যান্ড। এমবোলোর আদায় করা ফাউলের পর আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি।
পরে ভিএআরের পরামর্শে ঘটনাটি পর্যালোচনা করেন রেফারি। রিপ্লেতে দেখা যায়, পারেদেসের সঙ্গে এমবোলোর কোনো সংস্পর্শ হয়নি। এরপর পারেদেসের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করে এমবোলোকেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।
সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে এমবোলোর ক্ষোভ এখনো আছে। দ্য অ্যাথলেটিককে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে আমরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, কারণ আমরা জানতাম, ১১ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে পারলে জয়ের সামর্থ্য আমাদের ছিল। অবশ্যই সেই মুহূর্তটি আমাকে প্রভাবিত করেছে এবং দলকেও কষ্ট দিয়েছে। আর শেষ পর্যন্ত সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে রেফারি তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর খেলাধুলায় এ ধরনের ভুল থাকেই।’
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সে হার নিয়ে এমবোলো বলেন, ‘না, আমরা পুরোপুরি হেরে গেছি, আর আমি প্রতিযোগিতাপ্রবণ মানুষ। হার মেনে নেওয়া আমার জন্য কঠিন।’
এমবোলোর কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় শুধু লাল কার্ড নয়, বরং বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আবার কবে আসবে, সেটিও অনিশ্চিত। তিনি বলেন, ‘যখন উপলব্ধি করবেন, এই পর্যায়ে পৌঁছানো এবং একটি ঐক্যবদ্ধ দল গড়ে তোলা কতটা কঠিন, তখন সিদ্ধান্তটি মেনে নেওয়া আরও কঠিন হয়ে যায়। বিষয়টি লাল কার্ড ছিল কি না, সেখানে নয়। আসল কঠিন বিষয় হলো, পরবর্তী সুযোগ হয়তো আরও চার বছর পর আসবে, আর ভবিষ্যৎ কী হবে—সেটির কোনো নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না।’