গত মঙ্গলবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। সেই প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশ কিনতে পারবেন বাইরের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা। এর পরই আজ জরুরি বৈঠকে বসে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা।
বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, তাদের ৫৫টি সদস্য ফেডারেশন এ বিষয়ে একই অবস্থানে রয়েছে। উয়েফা বলেছে, ‘আমরা সর্বসম্মতভাবে এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশ্বকাপ ও ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতায় মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি।’
এরপরই বিশ্বকাপের ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে আনে উয়েফা, ‘বিশ্বকাপকে কোনো বিনিয়োগপণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এটি ফুটবলের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ঐতিহ্যগুলোর একটি। বিশ্বের সব মহাদেশের খেলোয়াড়, জাতীয় দল ও সমর্থকদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের অবদানে এটি গড়ে উঠেছে। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’
ফিফার ২১১ সদস্য দেশের ভোটে ইনফান্তিনোর প্রস্তাব অনুমোদিত হলে উয়েফার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সেক্ষেত্রে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের পাশাপাশি ক্লাব বিশ্বকাপও বয়কট করবে ইউরোপের দেশগুলো।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে প্রতিটি সদস্য ফেডারেশন পাবে ৪ কোটি মার্কিন ডলার। আর ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনায় সম্মতি জানালে প্রথম ধাপে ২ কোটি ডলার দেওয়া হবে বলে সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছেন ইনফান্তিনো।
এর আগেও উয়েফা এক বিবৃতিতে ফিফার সমালোচনা করে অভিযোগ করেছিল, ফুটবলকে ‘নিজেদের এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠদের সমৃদ্ধ করার হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে ফিফা।
বিশ্বকাপের মালিকানা কাঠামো নিয়ে ফিফা ও উয়েফার এই বিরোধ আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন এক সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। এখন নজর ফিফার সদস্য দেশগুলোর ভোটের দিকে। সেই ভোটেই নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কাঠামো।