কোপা দ্য ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর বিতর্কে জড়ালেন নেইমার। রেমোর বিপক্ষে সান্তোসের ১-০ গোলের জয়ের পর টানেলে প্রতিপক্ষের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন ব্রাজিলের এই তারকা ফুটবলার। সেই ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রেমোর মাঠে পুরো ম্যাচজুড়েই স্বাগতিক সমর্থকদের কটূক্তির শিকার হন নেইমার। জয়ের পর ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে সমর্থকদের উদ্দেশে চুমু ছুড়ে দেন তিনি। এরপর মিক্সড জোনে রেমোর কর্মকর্তা ও সমর্থকদের সামনে তাঁকে নাচতে দেখা যায়। এ সময় নেইমার চিৎকার করে বলেন, ‘এলিমিনেটেড! এলিমিনেটেড!’ (বাদ পড়ে গেছ, বাদ পড়ে গেছ)।
নেইমারের এমন আচরণের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রেমোর সমর্থকেরা অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখান। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নেইমারকে গালিও দিচ্ছেন প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা। সম্ভাব্য সংঘর্ষ ঠেকাতে নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
ঘটনার পর নেইমারের কঠোর সমালোচনা করেছেন রেমোর সভাপতি আন্তোনিও কার্লোস তেইশেইরা। ক্লাব প্রধান মনে করেন, শিশুদের কাছে আদর্শ হিসেবে বিবেচিত একজন খেলোয়াড়ের এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ‘ও ফ্লুক্সো’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেইশেইরা বলেন, ‘নেইমারকে অনেক শিশু আদর্শ মনে করে, এখানে এসে এসব কাণ্ড করেছে এবং পরে আমাদের উসকানি দিতে এসেছে। এমন লোকদের আমরা আদর্শ বানিয়েছি—এটাই আমাদের ভুল।’
ম্যাচের পর তর্কে জড়ালেও মাঠের পারফরম্যান্সে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন নেইমার। প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর ফিরতি ম্যাচেও প্রথমার্ধে কোনো দল গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গ্যাব্রিয়েল বনতেম্পোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার।
মাঠে নামার পরই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। বক্সে ঢুকে সতীর্থ রনিকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। রনির সেই গোলেই জয় নিশ্চিত করে সান্তোস, উঠে যায় কোপা দ্য ব্রাজিলের শেষ আটে।
এই জয়ের মাধ্যমে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকার পাশাপাশি বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারও নিশ্চিত করেছে সান্তোস। তবে ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনার কারণে নেইমারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। ব্রাজিলের ফুটবল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে।