বাংলাদেশের ফুটবলে এখন হামজা চৌধুরী একটি আলাদা নাম। ইংলিশ ফুটবলের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় দলে আসা এই মিডফিল্ডারকে ঘিরে দেখাচ্ছেন নতুন স্বপ্নও। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ক্লদিও ক্যানিজিয়ার চোখেও হামজা শুধু একজন খেলোয়াড় নন, বাংলাদেশের ফুটবলের সম্ভাবনার একটি উদাহরণ। তাই হামজার মতো আরও কয়েকজন ফুটবলারকে বাংলাদেশ দলে দেখতে চান তিনি।
ফর্টিস ফুটবল মাঠে আজ ঢাকা ইন্টার স্কুল চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে অতিথি হয়ে এসেছিলেন ক্যানিজিয়া। মাঠে তখন স্কুলপড়ুয়া ছেলেদের ফুটবল, গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস। সেই আবহে সংবাদমাধ্যমের সামনে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উঠে আসে হামজার নাম।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ফুটবলারকে চিনে ক্যানিজিয়া প্রথমে বললেন তাঁর ইংলিশ ফুটবলের অভিজ্ঞতার কথা। তারপরই বোঝালেন, কেন এমন একজন খেলোয়াড় একটি দেশের ফুটবলের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলে এমন একজন খেলোয়াড় পাওয়াটা দুর্দান্ত বিষয়। এটা খেলোয়াড়দের জন্য এবং যেকোনো দেশের জন্যই অনেক বড় প্লাস পয়েন্ট। একাধিক এমন খেলোয়াড় থাকাটা দারুণ ব্যাপার। এটাই আসলে মূল পার্থক্য তৈরি করে দেবে।’
এই জায়গাতেই বাংলাদেশের ফুটবলের বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ক্যানিজিয়া। তাঁর মতে, দেশের সীমানার মধ্যে প্রতিভা ধরে রাখলে চলবে না; প্রতিভাকে পাঠাতে হবে আরও কঠিন পরীক্ষার দিকে। ইউরোপের বড় প্রতিযোগিতায় নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা যে একজন ফুটবলারকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়, সেটিই উদাহরণ দিয়ে বোঝালেন তিনি, ‘যদি আপনার খেলোয়াড়দের অন্য দেশে না পাঠান, তবে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এটা যেকোনো বড় দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য—এমনকি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানির ক্ষেত্রেও বহু বছর ধরে এমনটা ঘটেছে। যখন এসব খেলোয়াড় ইউরোপের সেরা দল এবং টুর্নামেন্টগুলোতে খেলতে যায়, তারা আরও উন্নত ফুটবলারে পরিণত হয়।’
বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে ক্যানিজিয়ার কথায় তাই শুধু হামজার প্রশংসা নেই, আছে একটি পথের ইঙ্গিতও। সেই পথ সহজ নয়। প্রতিভা খুঁজে বের করতে হবে, তাকে সময় দিতে হবে, দেশের বাইরে খেলার সুযোগ করে দিতে হবে। আর পাশাপাশি তৈরি করতে হবে বড় স্বপ্ন দেখার মানসিকতাও।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নে ক্যানিজিয়া বলেন, ‘আমরা জানি এখন বিশ্বকাপে ৪৮টি দল খেলছে, হয়তো পরের বিশ্বকাপে ৬৪টি দল খেলবে। তাই আমরা চাই যেন বাংলাদেশ বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। এটা সহজ পথ নয়, তবে এটা নির্ভর করবে কোচদের ওপর, সরকারের ওপর, সার্বিক পরিবেশের ওপর এবং আপনারা যে পারফর্ম করছেন আর যেসব প্রতিভাবান খেলোয়াড় দেখতে পাচ্ছেন তাদের সেরাটা বের করে আনার ওপর, যাতে তারা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।’