নেপাল ফুটবল সংস্থাকে (এএনএফএ) তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কারণেই আজ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা। তাতে করে এ বছরের নভেম্বরে হতে যাওয়া সাফে তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
ফিফার বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে এএনএফএ-কে পাঠানো এক চিঠিতে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্টর্ম নিশ্চিত করেছেন। দেশটির ক্রীড়া প্রশাসনের সরকারি সংস্থা নেপালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে মনে করছে ফিফা। ফুটবল ফেডারেশনগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত। বিশেষ করে নেতৃত্ব নির্বাচনসহ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলোতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয় বলে মনে করছে ফিফা।
ফিফার স্থগিতাদেশের কারণে নেপাল ফিফা বা মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর আয়োজিত কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না। ফলে সাফে তাদের অংশগ্রহণ একরকম অনিশ্চিত। এ বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশে হওয়ার কথা সাফ। অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দেশটি সাময়িকভাবে ফিফার উন্নয়ন কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ কোর্স এবং অর্থায়নকৃত বিভিন্ন প্রকল্প থেকেও বঞ্চিত হবে।
নেপালের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে ভীষণ উদ্বিগ্ন এএনএফএ’র মুখপাত্র সুরেশ শাহ। এক বিবৃতিতে সুরেশ বলেন, ‘এই স্থগিতাদেশ সরাসরি আমাদের খেলোয়াড়দের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নিচ্ছে। যেসব ক্রীড়াবিদ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেপালের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’
এ বছরের মার্চে নেপালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এএনএফএ-কে তিন মাস নিষিদ্ধ করার ফলেই মূলত ঝামেলার সূত্রপাত। সে সময়েই ফেডারেশনটি ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এএফসি) অনুমোদিত একটি নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করছিল। মে মাসে সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি।
ক্রীড়া পরিষদ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দিয়ে আসছে, যার মধ্যে নেপালের ক্রীড়া আইন অনুযায়ী ফেডারেশনের গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের দাবিও রয়েছে। ফিফার দৃষ্টিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হয়নি। এগুলো অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা। যদি এএনএফ-এর বিরুদ্ধে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে নেয় এবং কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই ফেডারেশনকে তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেয়, সেক্ষেত্রে ফিফা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।