হোম > খেলা > ফুটবল

শরীরে পুরুষ হরমোনের আধিক্য, নিষিদ্ধ বাংলাদেশি দুই অ্যাথলেট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

নিষিদ্ধ হলেন কবিতা রায় ও জান্নাত বেগম। ছবি: বিএএফ

বিরল এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। মেডিকেল পরীক্ষার ফল ও আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নারী বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের অর্জন করা ১৬ পদক বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজ ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এবং কবিতা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট। নারী বিভাগে তাঁদের অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে নিজ নিজ সংস্থার অভিযোগের পর বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) কাছে অনুরোধ করেছিল ফেডারেশন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে বিএমইউ। প্রায় আট মাস ধরে তাঁদের বিভিন্ন শারীরিক ও হরমোন পরীক্ষা করা হয়। গত ১১ মে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ১৬ মে ফেডারেশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় বোর্ড। মেডিক্যাল বোর্ডের মত অনুযায়ী, তাঁদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ফেডারেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৮ বছর বয়সী জান্নাত ও ১৯ বছর বয়সী কবিতার হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় ৪৬, এক্সওয়াই ডিএসডি (লিঙ্গ বিকাশের ভিন্নতা) শনাক্ত হয়েছে। দুজনেরই পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস (জন্মগত একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে পুরুষের মূত্রনালির মুখ স্বাভাবিক জায়গায় না থেকে নিচের দিকে বা অস্বাভাবিক স্থানে থাকে) রয়েছে এবং উভয় জননগ্রন্থি (শরীরের সেই অঙ্গ, যেখানে যৌন হরমোন ও প্রজননের সঙ্গে সম্পর্কিত উপাদান তৈরি হয়) কুঁচকির নালিতে অবস্থিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমোন পরীক্ষায় দুজনের টেস্টোস্টেরনের মাত্রাও নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে। জান্নাতের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া গেছে ১৯ দশমিক ৬৬ ন্যানোমোল প্রতি লিটার, কবিতার ১৬ দশমিক ৫০ ন্যানোমোল প্রতি লিটার। আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকসের ডিএসডি বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে প্রতিযোগিতা করতে হলে টানা ২৪ মাস টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ২ দশমিক ৫ ন্যানোমোল প্রতি লিটারের নিচে রাখতে হয়।

ফেডারেশন জানিয়েছে, জান্নাত ও কবিতা কেউই এই শর্ত পূরণ করেননি। মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক বিধিমালা বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের নারী বিভাগে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর প্রভাব পড়েছে তাঁদের অর্জনেও। জান্নাতের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রোতে অর্জিত দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি সোনা, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। কবিতার ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪ গুণিতক ১০০ মিটার দৌড়ে অর্জিত ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদকও বাতিল হবে।

বাতিল হওয়া পদকগুলো সংশ্লিষ্ট ইভেন্টে পরবর্তী অবস্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী পুনর্বণ্টন করা হবে। জান্নাত ও কবিতার নারী বিভাগে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর গত এক বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে।