সৌদি প্রো লিগে আল হিলালের সঙ্গে শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে থাকলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন আল নাসরের কিংবদন্তি ফাহাদ আল হারিফি। বিশেষ করে মাঝমাঠে দুর্বলতা, শৃঙ্খলার ঘাটতি ও খেলোয়াড়দের আত্মতুষ্টি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
একই সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও পরামর্শ দিয়েছেন আল হারিফি।
এসবিসি চ্যানেলের দাওরিনা গাইর অনুষ্ঠানে আল হারিফি বলেন, ‘দলে আত্মতুষ্টি ও শৃঙ্খলার ঘাটতি রয়েছে। দলের মধ্যে স্পষ্ট একটি দুর্বলতা আছে, বিশেষ করে ৬ নম্বর পজিশনে একজন খেলোয়াড় না নেওয়ার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে।’
আল হারিফির মতে, মার্সেলো ব্রোজোভিচের বিদায় দলের মাঝমাঠে বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘ব্রোজোভিচ দলের শক্তির ২০ শতাংশ জুড়ে ছিলেন। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর তার মানের নিচে একজন খেলোয়াড়কে (সামু কস্তা) দলে নেওয়া হয়েছে। আর (কিংসলি) কোমানের পারফরম্যান্সও গত মৌসুমের তুলনায় নিচে নেমে গেছে।’
আল হারিফির ক্ষোভের বড় কারণ আবহার বিপক্ষে আল নাসরের পারফরম্যান্স। ষষ্ঠ রাউন্ডের ওই ম্যাচে রোনালদোর গোলে এগিয়ে যায় রিয়াদের ক্লাবটি। পরে আবদুল্লাহ আল হামদান ব্যবধান দ্বিগুণ করেন, যদিও নাবিল ফেকিরের গোলে ব্যবধান কমায় আবহা। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আল নাসর।
এই জয়েও দলের দুর্বলতা আড়াল হচ্ছে না বলে মনে করেন আল হারিফি, ‘আমি আল নাসরের বর্তমান পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক মনে করছি। কারণ মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়া আবহার বিপক্ষে দুই দলের পার্থক্য স্পষ্ট হওয়ার পরও আল-ইত্তিহাদের হারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের মধ্যে উদ্দীপনা ও লড়াকু মানসিকতা তৈরি করা যায়নি, তৈরি হয়নি যথেষ্ট সুযোগও।’
এরপর রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন আল হারিফি। আবহার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে আল নাসরের হয়ে প্রথম গোল করা পর্তুগিজ তারকাকে বক্সের ভেতরে আরও বেশি সক্রিয় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আল হারিফি বলেন, ‘আমি আশা করি, পেনাল্টি এলাকার বাইরে বল গ্রহণ ও পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে রোনালদো যে পরিমাণ পরিশ্রম করেন, সেটি কিছুটা কমিয়ে তিনি পেনাল্টি এলাকার ভেতরে আরও বেশি কাজ করবেন, খেলা পড়বেন, বল দখলের জন্য হস্তক্ষেপ করবেন এবং বল ছাড়া খেলায় আরও সক্রিয় থাকবেন।’
৬ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে অবস্থান করছে আল নাসর। সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় আল হিলাল আছে শীর্ষে। তিনে আছে আল কাদসিয়াহ। তাদেরও সংগ্রহ ১৫ পয়েন্ট।