ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনার সমালোচনা করে চাকরি হারালেন সংস্থাটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুর। ১৭ আগস্ট ফিফা ও লামুরের সম্পর্ক শেষ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ফিফার এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, ‘চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে ফিফা ও কেভিন লামুর আর ফিফার সঙ্গে নেই। দুই বছরের সেবার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। তাঁর ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।’
সোমবার সন্ধ্যায় ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম ই-মেইলের মাধ্যমে কর্মীদের বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি বলেন, ‘ফিফা ও লামুর ‘আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে।’
২০২৪ সালের নভেম্বরে ফিফায় যোগ দেওয়ার আগে লামুর উয়েফার উপমহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফিফায় তিনি ইনফান্তিনোর দুই স্তর নিচে ছিলেন।
লামুরের চাকরি হারানোর ঘটনা সামনে এসেছে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর। ফিফার সব প্রতিযোগিতা, এমনকি বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব পরিচালনার জন্য নতুন একটি কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। সেই কোম্পানির ২১ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাবও ছিল।
পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি এর বিরোধিতা করে। এমনকি এফএফই বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল উয়েফা। শেষ পর্যন্ত ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়।
প্রস্তাবটি বাতিল হওয়ার আগেই এর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন লামুর। তিনি বলেছিলেন, ‘এখন সময় এসেছে ফুটবলের রাজনৈতিক নেতাদের নিজেদের কাছে সঠিক প্রশ্ন করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আমাদের লক্ষ্য, ফিফার শত শত উদ্যমী, নিবেদিতপ্রাণ ও অসাধারণ কর্মীর লক্ষ্য হলো ফুটবলের সেবা করা। একজন সভাপতির দায়িত্ব হলো মানুষকে একত্র করা, ঐক্যবদ্ধ করা এবং অনুপ্রাণিত করা। আজ আমরা এর বিপরীতটাই দেখছি।’
নিজের চাকরি হারানোর সম্ভাবনার কথাও তখন স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন লামুর, ‘যদি এর অর্থ হয় যে আমি চাকরি হারাব, তাহলে তাই হোক। আমি সেই সিদ্ধান্ত বুঝব এবং সম্মান করব। অন্তত আজ রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারব।’