২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ যেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলার টুর্নামেন্ট। লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইনের মতো তারকারা ভেঙে দিচ্ছেন একের পর এক রেকর্ড। তারকা ফুটবলাররা তো বটেই, এমনকি দলগুলোও নাম লেখাচ্ছে রেকর্ড বইয়ে। গত রাতে উড়ন্ত জয়ে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলেছে নেদারল্যান্ডসরা।
হিউস্টনে গত রাতে নেদারল্যান্ডস-সুইডেন ম্যাচে গ্যালারি ছেয়ে গিয়েছিল কমলা রঙের জার্সি ও পতাকায়। মাঠেও দেখা গেছে কমলা উৎসব। সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপে টানা সর্বোচ্চ ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা নিজেদের করে নিল ডাচরা। তাতে ভেঙে গেল ব্রাজিলের ৬০ বছরের পুরোনো এক রেকর্ড। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত ছিল সেলেসাওরা। যার মধ্যে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল।
নেদারল্যান্ডস সবশেষ বিশ্বকাপে হেরেছে ২০১০ সালের ফাইনালে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ডাচদের ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। টানা সর্বোচ্চ ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডের কথা শুনে মনে হতেই পারে নেদারল্যান্ডস নিয়মিত বিশ্বকাপ জিতে চলেছে। কিন্তু যাঁরা ফুটবলের খোঁজখবর নিয়মিত রাখেন, তাদের জানার কথা এখানে পরিসংখ্যানের অন্যরকম ‘খেলা’ রয়েছে।
২০১৪ থেকে ২০২২—এই তিন বিশ্বকাপের মধ্যে ২০১৮ সালে নেদারল্যান্ডস মূলপর্বে উঠতে পারেনি। ২০১৪ সালে তৃতীয় হয়েছিল ব্রাজিলকে হারিয়ে। কিন্তু সেবার ডাচরা সেমিতে হেরেছিল আর্জেন্টিনার কাছে। নেদারল্যান্ডস-আর্জেন্টিনা মূল ম্যাচ ড্র হওয়ায় টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয়েছিল বলে এটাকে ড্র হিসেবে ধরা হয়েছে। ২০২২ সালেও ডাচদের কাঁদায় আর্জেন্টিনা। এবারও ঘটনা একই রকম। নেদারল্যান্ডস-আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনাল ২-২ গোলে ড্র হওয়ায় টাইব্রেকারে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছিল।
সুইডেনের বিপক্ষে গতকাল নেদারল্যান্ডসের দুই ফরোয়ার্ড ব্রায়ান ব্রবি, কোডি গাকপো জোড়া গোল করেছেন। ব্রবি গোল করেছেন ৫ ও ১৭ মিনিটে। এরপর ৪৭ থেকে ৫৪—এই ৭ মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করেন গাকপো। সুইডেনের একমাত্র গোল অ্যান্থনি এলাঙ্কা ৫৯ মিনিটে করেন। তিনি ৫৬ মিনিটে আলেক্সান্ডার বের্নহার্ডসনের পরিবর্তে নামেন। আর সুইডেনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। ৮৯ মিনিটে তিনি গোল করেছেন।
৫-১ গোলে জিতলেও নেদারল্যান্ডসের নকআউট পর্ব এখনো নিশ্চিত হয়নি। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ডাচরা। দুই ও তিনে থাকা সুইডেন ও জাপানের পয়েন্ট ৩ ও ১। তলানিতে থাকা তিউনিসিয়ার পয়েন্ট ০। কিছুক্ষণ পর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে জাপান ও তিউনিসিয়া। জাপান-তিউনিসিয়া ম্যাচটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০০০তম ম্যাচ।