লেস্টার সিটির সঙ্গে হামজা চৌধুরীর সম্পর্ক ১১ বছরের। মাঝে বার্টন আলবিয়ন, ওয়াটফোর্ড এবং শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেললেও ফিরেছেন লেস্টারেই। এবার বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
পোর্টম্যান রোডে গতকাল কারাবাও কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে লেস্টার সিটি ও ইপসউইচ টাউন। তবে এই ম্যাচে একাদশেই সুযোগ মেলেনি হামজার। এই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ফুটবলারের লেস্টার ছাড়া নিয়ে গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হারের পর লেস্টার কোচ রাসেল মার্টিনের কাছেও এসেছে হামজাকে নিয়ে প্রশ্ন। কোচ বলেন, ‘যদি হামজা শেষ পর্যন্ত থেকে যায়, সেটা তো খুব ভালো। যদি চলেই যায়, তবে তা ক্লাব-খেলোয়াড় দুই পক্ষের সুবিধামতো হতে হবে। সে যা-ই হোক, এখনো হামজা লেস্টারেরই।’
নটস কাউন্টি ও বার্টন অ্যালবিয়নের বিপক্ষে ফুটবল লিগ ওয়ানে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন হামজা। দলবদলের গুঞ্জন থাকায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত মার্টিনের। পোর্টম্যান রোডে গতকাল ইপসউইচ টাউনের কাছে হারের পর লেস্টার কোচ বলেন, ‘যেভাবে দলবদলের আলোচনা চলছে, এই মুহূর্তে তাকে আমি খেলাচ্ছি না। এটার মানে এই না যে সে খারাপ কিছু করেছে। সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আমার।’
১ সেপ্টেম্বর ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগেই হামজাকে নিয়ে জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে ডার্বি কাউন্টি। কেবল হামজাই নন, ভাউট ফায়েস-কুলো ওয়ো-স্তেফি মাভিদিদির মতো ফুটবলারদের নিয়েও অনেক ক্লাবের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। রাসেল মার্টিনও সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন। ইপসউইচ টাউন ম্যাচ শেষে লেস্টার কোচ বলেন, ‘তাদের (হামজা-ফায়েস-ওয়ো-মাভিদিদি) নিয়ে অনেক আগ্রহ রয়েছে। তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। যারা থেকে যাচ্ছে, তাদের নিয়েই প্রস্তুত থাকা আমার দায়িত্ব।’
বার্টন, ওয়াটফোর্ড ও শেফিল্ডে ধারেও হামজা শেষ পর্যন্ত লেস্টার সিটিতেই ফিরেছেন। লেস্টারের হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৬৬ ম্যাচ খেলেছেন। তিন গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন চার গোলে। ২০২০-২১ মৌসুমে লেস্টারের জার্সিতে এফএ কাপ, কমিউনিটি শিল্ডের পর ২০২৩-২৪ মৌসুমে জেতেন কমিউনিটি শিল্ড।
বর্তমানে ইংলিশ ফুটবল লিগের তৃতীয় স্তর লিগ ওয়ানে খেলছে লেস্টার সিটি। তবে এই ক্লাবটির হয়ে এক সময় শীর্ষ স্তর প্রিমিয়ার লিগে হামজা খেলেছিলেন। গত বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর থেকেই বাংলাদেশ ফুটবলের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছেন তিনি। বাংলাদেশের জার্সিতে ১০ ম্যাচে ৪ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করেছেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।