প্রায় দুই যুগ আগে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর আর দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের বিশ্বকাপ খ্যাত এই টুর্নামেন্টের শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে পারেনি। তবে এবার ঘরের মাঠ হওয়ায় শিরোপা খরা কাটানোর সেরা সুযোগ দেখছেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডার তপু বর্মন।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে কাল সাফ শুরু হবে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তপু-হামজা চৌধুরীদের প্রতিপক্ষ ভুটান। ম্যাচটি শুরু হবে স্থানীয় সময় রাত ৮টায়। ১১ নভেম্বর রাত ৮টায় গ্রুপপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তপু বলেন, ‘অবশ্যই নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। বিশেষ করে রক্ষণভাগ থেকে পুরো দলকে সহযোগিতা করার চেষ্টা থাকবে, গোলরক্ষকও থাকবেন। আমার মনে হয়, এর চেয়ে ভালো সময় আমরা আর পাব না। ঘরের মাঠে সাফ ফুটবল আয়োজন আমাদের জন্য বড় সুযোগ। ২০০৫ সালের দলের সঙ্গে বর্তমান দলের তুলনা করলে আমার মনে হয়, অনেক পার্থক্য রয়েছে। সেই বিবেচনায় আমাদের সম্ভাবনাও বেশি। তবে সবাই যদি সম্মিলিতভাবে ভালো পারফর্ম করতে পারি এবং দলীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে খেলতে পারি, তাহলে অবশ্যই ভালো কিছু করা সম্ভব।’
ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় গ্যালারি ভর্তি দর্শক প্রিয় দলকে নিয়ে গলা ফাটাবে। তবে সেটাকে চাপ হিসেবে না নিয়ে প্রেরণায় রূপ দিতে চান তপু, ‘অবশ্যই চাপ আছে। তবে আমার মনে হয়, যেখানে চাপ থাকবে, সেখান থেকেই ভালো ফল বেরিয়ে আসবে। আমাদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে, ফুটবলপ্রেমীরা কী চাইছেন এবং কেন তাঁরা আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন। তাঁদের প্রত্যাশা আসলে ম্যাচ জেতা এবং ট্রফি জয় করা।’
শ্রীলঙ্কা দলে ১৮-১৯ জন প্রবাসী ফুটবলার আছেন। স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশ উদ্দীপ্ত ফুটবল খেলছে লঙ্কানরা। তাদের বিপক্ষে ম্যাচকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না তপু। তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই শ্রীলঙ্কা দলে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ফিরেছেন। তাদের দল এখন আগের মতো নেই। বর্তমানে তারা যেকোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করার সামর্থ্য রাখে। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে তাদের আগের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা ৯ পয়েন্ট অর্জন করেছে। এটা মোটেও সহজ কোনো বিষয় নয়। ফলে নিশ্চিতভাবেই তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’