দিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক সেই ম্যাচ নিয়ে আলোচনা এখনো চলছেই। ৪০ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসতেকায় ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল করে হই চই ফেলে দেন তিনি। এবার তাঁর সেই ঐতিহাসিক বল বিক্রি করা হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকায়।
যুক্তরাষ্ট্রের হেরিটেজ অকশনসে গত পরশু ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ বলটি বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ পাউন্ডে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ৪১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তবে ধারণা করা হচ্ছিল, এর দাম ৭৩ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে (১২২ কোটি টাকা)। নিলামের আগে রয়টার্সকে হেরিটেজের বিশেষজ্ঞ নিলামকারী মাইক প্রোভেনজেল বলেছিলেন, ‘এটি সত্যিই একমাত্র একটি জিনিস। বলা যায়, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল-স্মারক।’
১৯৮৬ বিশ্বকাপে আসতেকায় ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালের রেফারি ছিলেন তিউনিসিয়ার আলি বিন নাসের। ম্যাচ শেষে তিনি অ্যাডিডাসের সেই বলটি সংগ্রহ করে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের কাছে রেখেছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করে নিশ্চিত করেছিলেন যে ম্যাচটিতে ব্যবহৃত একমাত্র বল এটিই ছিল। পরবর্তীতে স্বাধীনভাবে করা আরও কিছু যাচাইয়েও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
২০২২ সালে ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ বলটি রেফারি বিন নাসের ১৭ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি করেছিলেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ২৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। নতুন মালিক ২০২৩ সালে আবার বলটি নিলামে তুলেছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত দাম না ওঠায় সেটা বিক্রি হয়নি।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের পাশ দিয়ে বলটি হাত দিয়ে ঠেলে গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। গোলের পর তিনি বলেছিলেন, ‘গোলটি ম্যারাডোনার মাথা দিয়ে একটু এবং বাকিটুকু হয়েছে হাত দিয়ে।’ সেই ম্যাচে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি পরে যে গোলটি করেছিলেন, সেটি পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত পায়।ইংল্যান্ডের পাঁচ ফুটবলারকে ড্রিবলিং করে গোলরক্ষক শিলটনকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়েছিলেন।
ইংল্যান্ডকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। জার্মানিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। ম্যারাডোনা এরপর ২০২০ সালে চলে যান না ফেরার দেশে। মৃত্যুর পর তাঁর ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের জার্সিটি ২০২২ সালে নিলামে ৭১ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১১৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।