প্রধান কোচের সন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ইতালি ফুটবল দল। এ বছরের এপ্রিলে জেনারো গাত্তুসো পদত্যাগের পর প্রধান কোচের শূন্য চেয়ার পূরণে পেপ গার্দিওলারও দ্বারস্থ হয়েছে ইতালি ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। কিন্তু গার্দিওলা এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
মে মাসে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ১০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করার পর গার্দিওলা এখন ঝাড়া হাত-পা। এমন অবস্থায় এই কিংবদন্তি কোচকে নিতে এফআইজিসি তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। কিন্তু বিবিসির আজকের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গার্দিওলা আপাতত বিশ্রাম নিতে চান। পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চান। এই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় ভ্রমণ করতে চান বলে ইতালির দায়িত্ব নিতে চান না।
২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপের পর টানা তিন বিশ্বকাপে মূলপর্বের টিকিটই কাটতে পারেনি ইতালি। এপ্রিলে এই নিয়ে সমালোচনা যখন তুঙ্গে, তখন প্রধান কোচের চাকরি ছেড়েছিলেন গাত্তুসো। তিন মাস ধরে শূন্য হয়ে থাকা চেয়ারটি পূরণ করতে তাই এফআইজিসি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কদিন আগে ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগো বলেছিলেন, ‘গার্দিওলার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি ১০ বছর পর এই গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়েছেন এবং তাঁকে মোটা অঙ্কের টাকা বেতন দেওয়া হবে। চাইলে গার্দিওলা নিজের মতো করে দল সাজাতে পারবেন।’
শুধু গার্দিওলাই নন, সাবেক ইতালিয়ান ফুটবলার কার্লো আনচেলত্তিকেও প্রধান কোচ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। গতকাল এফআইজিসির টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি বলেন, ‘ইতালি প্রথমে তাদের প্রাক্তন খেলোয়াড় কার্লো আনচেলত্তির সাথে যোগাযোগ করেছিল, যিনি বর্তমানে ব্রাজিলের দায়িত্বে আছেন। আনচেলত্তি তার পদে থাকছেন।’ তবে গার্দিওলা, আনচেলত্তি কারও কাছ থেকে সাড়া পায়নি ইতালি।
২০১৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ১০ বছরে ম্যানচেস্টার সিটির কোচের দায়িত্বে ছিলেন গার্দিওলা। তাঁর অধীনে সিটি জেতে ২০ শিরোপা। যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা। গার্দিওলার অধীনে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপও জিতেছে সিটিজেনরা। গার্দিওলা, আনচেলত্তি না করে দেওয়ায় ইতালির কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন আন্দ্রেয়া পিরলো। ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালির সদস্য ছিলেন পিরলো। বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তিকে কোচ বানিয়ে ইতালি তার হারানো ফুটবল ইতিহাস পুনরুদ্ধার করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।