ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যেন থামার নয়। বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির যে প্রস্তাব জুলাই মাসে দিয়েছিলেন, তারপর থেকেই বেশ চাপে তিনি। অনেক ফেডারেশন তাঁর ওপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নিয়েছে। তাঁর পদত্যাগেরও দাবি উঠেছে বেশ কিছু ফেডারেশন ও কয়েক জন কিংবদন্তি ফুটবলারের পক্ষ থেকেও।
ফিফার অফিশিয়াল ‘লেজেন্ডস’সহ বর্তমান ও সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলাররা সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম বলেননি ঠিকই। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন তাঁরা। এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পরিবর্তন জরুরি। ক্ষমতা বর্তমান নেতৃত্বের নিজের স্বার্থ আর ফুটবলের জন্য কী ভালো—এই দুটির মধ্যে পার্থক্য বোঝার সক্ষমতাকে ঝাপসা করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে নীরব থাকা অসম্ভব করে তুলেছে। আর নয়। এবার যথেষ্ট হয়েছে।’
ফিফা ‘প্লেয়ার্স ভয়েস প্যানেল’-এর সদস্য এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-আর্সেনালের সাবেক মিকেল সিলভেস্ত্রে যৌথ বিবৃতিতে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করা ফুটবলারদের অন্যতম। সঙ্গে আছেন ফিফার সাবেক বর্ষসেরা ইংল্যান্ডের নারী ফুটবলার লুসি ব্রোঞ্জ, ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ইমানুয়েল পেতিতও। লেজেন্ডসদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের মনে যে শঙ্কা কাজ করছে, আমরাও ঠিক একই রকম শঙ্কিত। ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে এই প্রিয় খেলা কীভাবে মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, সেটা আমরা দেখেছি।’
ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের আংশিক মালিকানা বিক্রির প্রস্তাব দেওয়ায় উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরবর্তীতে ফিফা সভাপতি ক্ষমা চাইলেও উয়েফা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। গত ১০ আগস্ট ইনফান্তিনোকে খোলাচিঠি দিয়েছিল তিন কনফেডারেশন উয়েফা, এএফসি ও কনক্যাকাফ। যৌথ চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল, ফুটবল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না।
উয়েফার ৫৫ সদস্যদেশ যখন নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি, তাতে করে ফিফার অনেক টুর্নামেন্ট পড়েছে হুমকির মুখে। গতকাল ‘ফিফা লেজেন্ডস’-এর বিবৃতিতে ইনফান্তিনোর অনড় অবস্থান নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। যৌথ বিবৃতির ভাষ্য, ‘সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনায় আমরা চুপ করে থাকতে পারছি না। ফিফাতেও অনেক ভালো মানুষ আছেন। তাঁরা আস্থা ফিরিয়ে আনতে চান। নতুন একটি যুগের সূচনা করতে কাঠামোগত পরিবর্তন অবশ্যই প্রয়োজন।’
২০১৫ থেকে ফিফা সভাপতির পদে আছেন ইনফান্তিনো। ২০২৭ সালের মার্চে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য পুনরায় সভাপতি নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা রয়েছে তাঁর। তবে যেভাবে তিনি ‘নিঃস্ব’ হয়ে যাচ্ছেন, তাঁর পক্ষে সমর্থন কমে যাচ্ছে, তাতে ফের ফিফা সভাপতি হওয়া তুলনামূলক কঠিনই।