রবার্তো আলভারাদোর পাস রিসিভ করে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল দিলেন রাউল হিমেনেস। গোল করার পর শূন্যে উড়ে লাফ দিলেন। পরক্ষণে দুই হাত আকাশের দিকে উঁচু করে কাঁদতে লাগলেন। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে গোল করে আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদেছেন বলে অনেকে ভাবতেই পারেন। কিন্তু হিমেনেসের গল্পটা যে একটু ভিন্ন।
মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামে গত রাতে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬৭ মিনিটে গোল করে কাঁদলেন হিমেনেস। এটা তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। তবে হিমেনেসের পথচলা যে একেবারেই মসৃণ নয়। হয়তোবা গত রাতে তিনি এমন কিছু করার উপলক্ষ নাও পেতে পারতেন। সেক্ষেত্রে ফিরে যেতে হবে ৬ বছর আগের এক ঘটনায়। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি ইংল্যান্ডের উলভারহাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের হয়ে খেলতে গিয়ে মাথার খুলিতে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। তখন তাঁকে করতে হয়েছিল অস্ত্রোপচার। এই ঘটনার দুই সপ্তাহের মধ্যেই অনুশীলনে ফিরেছিলেন। তবে মাথার সেই চোটের কারণে ক্যারিয়ারে দীর্ঘসময় খেলতে হয়েছিল সুরক্ষামূলক হেডগিয়ার পরে।
হিমেনেস গত রাতেই কেঁদেছেন, তা নয়। এর আগে এ বছরের ২১ মার্চ ফুলহামের হয়ে বার্নলির বিপক্ষে গোলের পরও কেঁদেছিলেন। কারণ, এই ম্যাচের কদিন আগে তাঁর বাবা রাউল হিমেনেস ভেগা ৬২ বছর বয়সে চলে যান না ফেরার দেশে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গত রাতে গোলের পর আকাশের দিকে তাকিয়ে হয়তো বাবাকেই স্মরণ করেছেন তিনি। উদ্বোধনী ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগিরে বলেন, ‘সে ব্যক্তিগত এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও যাচ্ছিল। এটা হয়তো তাকে নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। সে গোলও করেছে। তার জন্য এটা ছিল একেবারে নিখুঁত একটি দিন।’
গত রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শুরুর একাদশেই হিমেনেসকে খেলিয়েছেন মেক্সিকোর কোচ অ্যাগুয়েরে। কোচের আস্থার প্রতিদান হিমেনেস দিয়েছেন দারুণ এক গোল করে। ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে প্রশংসায় ভাসিয়ে আগিরে বলেন, ‘আমি একটি সাক্ষাৎকারে পড়েছিলাম, যেখানে সে বলেছিল যে এটি (২০২৬) তার বিশ্বকাপ হওয়া উচিত। আমার মতে সে দারুণভাবে শুরু করেছে। এতদিন সে সবসময় অন্য কারও ছায়ায় ছিল। কিন্তু আজ সে এই দলের মূল একাদশের খেলোয়াড়। সে সত্যিই এটা অর্জন করেছে।’
২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পানামার বিপক্ষে একটি বাইসাইকেল কিকে গোল করেছিলেন হিমেনেস। যা কনকাকাফের সেরা গোলের স্বীকৃতি পেয়েছিল। তবে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ২০১৪ বিশ্বকাপে তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছিলেন। এই বিশ্বকাপে খেলেছিলেন কেবল এক ম্যাচ। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ২ ও ৩ ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। তবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ প্রথম ৬ ম্যাচে গোল করতে পারেননি। গত রাতে পেলেন গোলের দেখা।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত হিমেনেস ১২৭ ম্যাচে করেছেন ৪৬ গোল। অ্যাসিস্ট করেছেন ১৬ গোলে। গত রাতে তাঁর বিশ্বকাপে প্রথম গোলের ম্যাচে মেক্সিকো ২-০ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ৯ ও ৬৭ মিনিটে গোল দুটি করেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস ও রাউল হিমেনেস।