বিশ্বকাপ জয়ের উদ্যাপন শেষ হতে না হতেই স্পেনের ফুটবলারদের সামনে খুলে গেছে আরেকটি মঞ্চ। সেটি মাঠের নয়, ইউরোপের দলবদলের বাজার। প্রতি বিশ্বকাপের পরই সেরা পারফরমারদের ঘিরে ক্লাবগুলোর আগ্রহ বেড়ে যায়। তবে এবার যেন সেই চিত্র আরও স্পষ্ট। লুইস দে লা ফুয়েন্তের হাত ধরে বিশ্বকাপ জেতা স্পেন দলের একাধিক ফুটবলারকে নিয়ে শুরু হয়েছে টানাটানি। কেউ ইতিমধ্যে ক্লাব বদলেছেন, কেউ আছেন দর-কষাকষির কেন্দ্রে, আবার কারও জন্য অপেক্ষা করছে মোটা অঙ্কের প্রস্তাব।
এই তালিকার সবচেয়ে আলোচিত নাম গোল্ডেন বলজয়ী রদ্রি। বিশ্বকাপে স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার। টুর্নামেন্টজুড়ে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলে স্পেনের খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, আক্রমণ গড়ে দিয়েছেন, আবার প্রয়োজনমতো রক্ষণেও নেমে এসেছেন। সেই পারফরম্যান্সের পর থেকেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে দলে টানতে মরিয়া রিয়াল মাদ্রিদ।
যদিও ২০২৭ সাল পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তি রয়েছে রদ্রির, নতুন চুক্তির প্রস্তাবে এখনো সম্মতি দেননি তিনি। রদ্রিকে বিক্রি করার জন্য সিটি ৭৫ মিলিয়ন ইউরো চাইলেও রিয়াল ৫০ মিলিয়নের বেশি খরচ করতে রাজি নয়। তবে বিভিন্ন বোনাস ও শর্ত যোগ করে দুই ক্লাব শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের ধারণা।
ফেরান তোরেসও পিছিয়ে নেই। বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করে স্পেনকে শিরোপা এনে দেওয়া এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরে আগ্রহ দেখাচ্ছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। বার্সেলোনার সঙ্গে তাঁর চুক্তির আর মাত্র ১১ মাস বাকি। কাতালান ক্লাবটি তাঁকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত থাকলেও ফেরান এখনো নিজের সিদ্ধান্ত জানাননি। কোচ হান্সি ফ্লিক তাঁকে আগামী মৌসুমের পরিকল্পনায় রাখলেও বাজারমূল্যের সঙ্গে ভালো প্রস্তাব এলে আটকে রাখবে না বার্সেলোনা। বর্তমানে তাঁর মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ইউরো।
স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা আয়মেরিক লাপোর্তের অবস্থাও একই রকম। বিশ্বকাপে তরুণ পাউ কুবার্সির সঙ্গে গড়ে তোলা তার জুটি ছিল প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে বার্সেলোনার ক্রীড়া পরিচালক ডেকো তাঁর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন। তবে আতলেতিক বিলবাও শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছে, ৮০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজের নিচে লাপোর্তেকে ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। অতীতে রিয়ালের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ালেও এবারও সেটি গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
শুধু এই তিনজন নন, স্পেনের আরও কয়েকজন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারকে ঘিরেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্ক কুকুরেয়া রিয়ালে ও আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো ইতিমধ্যে আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন। তা ছাড়া পেদ্রো পোরো ও মার্তিন সুবিমেন্দিরাও নজরে আছেন। বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার সুফল এখন পাচ্ছেন তাঁরা দলবদলের বাজারে।
বড় টুর্নামেন্টের পর খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য বেড়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। স্পেনের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই ঘটছে। পুরো টুর্নামেন্টে আধিপত্য দেখিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় দলটির খেলোয়াড়দের প্রতি আস্থা বেড়েছে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর। ফলে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বদলে গেছে তাঁদের মূল্যায়নও।
দলবদলের মৌসুম শেষ হতে এখনো অনেকটাই বাকি। সামনে আরও নতুন প্রস্তাব আসবে, দর-কষাকষি হবে, হয়তো কয়েকটি বড় অঙ্কের চুক্তিও সম্পন্ন হবে। তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট—বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের ফুটবলাররা শুধু ইতিহাসই লেখেননি, নিজেদের বাজারমূল্যও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে নিয়েছেন।