হোম > খেলা > ফুটবল

মালয়েশিয়াকে যেভাবে রুখবে বাংলাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বেলা ৩টায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ছবি: বাফুফে

বাংলাদেশের ডাগআউটে টমাস ডুলির শুরুটা দারুণ। গত জুনে ইউরোপের দেশ সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারানোর আগে শিষ্যদের নিয়ে সেভাবে কাজ করার সুযোগ পাননি। তিন মাস পর নতুন চ্যালেঞ্জ তাঁর সামনে। প্রত্যাশার চাপও কম নয়। ডুলি অবশ্য সেই চাপ বাড়াতে চাইছেন না।

ফিফা আসিয়ান কাপে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে বেলা ৩টায়। শক্তির বিচারে এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের জন্য শুরু থেকেই অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা।

সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৌতূহল হতে পারে মালয়েশিয়ার আক্রমণাত্মক ফুটবলের পেছনের গল্প। তান চেং হোর দল সামনে ওঠার সময় গতি বাড়াতে চায়। আরিফ আইমান ও ফয়সাল হালিমের মতো খেলোয়াড়দের সামনে রেখে আক্রমণ বাড়লে দলটির কাঠামোও তখন বদলে যায়। আক্রমণ আর রক্ষণে ফেরার মাঝের সময়টুকু তাই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মালয়েশিয়ার কোচ নিজে আক্রমণাত্মক ফুটবলের সঙ্গে দলীয় কাঠামোর ভারসাম্যহীনতার কথা বলেছেন। টুর্নামেন্টের আগে দলেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন খেলোয়াড়েরা পুরোনো কাঠামোর সঙ্গে কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন, সেটিও দেখার। ম্যাচের শুরুর দিকে তাঁদের বোঝাপড়ায় কোনো ঘাটতি দেখা গেলে সেটি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

ডুলির কাছে অবশ্য প্রতিপক্ষের শক্তির পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সম্মেলনে গতকাল বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে এটাও মানতে হবে যে মালয়েশিয়াও ঠিক আমাদের মতো চিন্তা করে। আমরা যখন র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা কোনো দলের বিপক্ষে খেলি, তখন আমরা যেমন হারতে চাই না, তেমনি মালয়েশিয়াও ঠিক একই রকম ভাবে। তারা আমাদের বিপক্ষে হারতে চায় না। বাস্তবসম্মতভাবে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে সেরা ফল অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন হবে, কিন্তু আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’

অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার কথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্ট, ‘অবশ্যই, কোচ যেমন বলেছেন, এটি আমাদের জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট, এক মাসের মধ্যে আমাদের সাফ রয়েছে, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তবে অবশ্যই একটি দল হিসেবে আমরা প্রতিযোগিতা করতে চাই।’

বাংলাদেশের জন্য আক্রমণে সুযোগ তৈরির আরেকটি রাস্তা খুলতে পারে মালয়েশিয়ার দুই প্রান্তের খেলা। আরিফ আইমান ও ফয়সাল হালিম ওপরে উঠে গেলে মাঝখানের খেলোয়াড়দেরও আক্রমণে যোগ দিতে হয়। সেই সময় বল হারালে রক্ষণে ফেরার মুহূর্তে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। দ্রুত বল সামনে নিতে পারলে বাংলাদেশের জন্য সেটি হয়ে উঠতে পারে সুবর্ণ সুযোগ। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর দায়িত্বটা থাকবে ফারহান আলী ওয়াহিদের কাঁধে। ইংলিশ ক্লাব ফুলহামের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই উইঙ্গারের অভিষেক হতে পারে আজ।

ঢাকার ক্যাম্পে খুব একটা অনুশীলন দেখার সুযোগ করে দেননি ডুলি। একাদশে কারা থাকছেন তা আন্দাজ করাও মুশকিল। সান মারিনোর বিপক্ষে ৪-৩-৩ ছকে একাদশ সাজিয়েছিলেন তিনি। এই ম্যাচেও সেই ছক পরিবর্তন করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তপু বর্মনের চোটে সেন্টারব্যাক হিসেবে কপাল খুলে দিতে পারে জিদান ইউসুফের। মাঝমাঠে হামজার সঙ্গে শমিত সোম থাকছেন। জামালও একাদশে থাকতে পারেন। আক্রমণভাগে ফারহান-রাকিবের সঙ্গে লড়াইটা হবে শেখ মোরসালিন ও ফাহামিদুল ইসলামের।

বাংলাদেশের মতো মালয়েশিয়া দলেও অবশ্য প্রবাসী ফুটবলারদের ছড়াছড়ি। ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া বার্গসন দা সিলভা, আর্জেন্টিনার ম্যানুয়েল হিদালগো এবং মালয়েশিয়ান বংশোদ্ভূত ব্র্যাড ট্যাপের সঙ্গে আছেন ডিওন কুলসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। বেলজিয়ামের শীর্ষ স্তরের ক্লাব ব্রুগার হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলেছেন কুলস। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে মালয়েশিয়ার অধিনায়ক বলেন, ‘আমি সত্যিই বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে উন্মুখ। আশা করি, ভালো কিছু অর্জন করতে পারব।’

মালয়েশিয়া নিজেদের ছন্দে থাকলে কাজ কঠিন, সেটি জানা। সেই ছন্দে বাধা দেওয়া হবে বাংলাদেশের বড় লক্ষ্য। মালয়েশিয়াকে ধাক্কা দেওয়াই হবে ডুলির দলের বড় অর্জন।