লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের শেষটা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। ৭ অক্টোবর ভোরে মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আলবিসেলেস্তেরা। এই ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেবেন এলএমটেন। তার আগে মেসিকে নিয়ে নিজের আবেগ ও আক্ষেপের কথা জানালেন আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান রোমেরো।
মেসির অনুপস্থিতি এরই মধ্যে টের পাচ্ছেন রোমেরো। এত বছর একসঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার পর তারকা ফরোয়ার্ডকে ছাড়া সময়টা তাঁর কাছে কেমন লাগছে, সেটিও জানিয়েছেন রক্ষভাগের এই ফুটবলার।
রোমেরো বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই আন্তর্জাতিক বিরতিতেই আমরা তাকে মিস করতে শুরু করেছি। অবশ্যই, কোনো একসময় এমনটা হওয়ারই ছিল। কিন্তু আমি কখনো ভাবিনি তার অনুপস্থিতি এতটা অনুভূত হবে। তবে সে সবসময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, কখনো নিজেকে অন্য কারও চেয়ে এগিয়ে রাখেনি।’
মেসির নেতৃত্বের ধরন বোঝাতে রোমেরো একটি বিশেষ মুহূর্তের কথা স্মরণ করেছেন। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর দলের সবাই যখন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে ঘিরে উদ্যাপন করছিল, তখন তিনি সতীর্থদের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন। রোমেরোর কাছে সেটিই মেসির নেতৃত্বের অন্যতম বড় উদাহরণ।
এই প্রসঙ্গে রোমেরো বলেন, ‘ইংল্যান্ডকে হারানোর পরের সেই ভিডিও দেখলে আমি এখনো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। সেখানে সবাই তাকে ঘিরে উদ্যাপন করছিল, আর সে পুরো দলের দিকে ইঙ্গিত করছিল। আমাদের জন্য সে সবসময় এমনই ছিল। এ কারণেই আমার কাছে সে সর্বকালের সেরা ফুটবলার। তার ওপর সে একজন অসাধারণ মানুষও।’
মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব পেয়েছেন রোমেরো। বলিভিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে প্রথমবার অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৪-০ গোলে জেতে এবং রোমেরো নিজেও একটি গোল করেন।
রোমেরো জানিয়েছেন, তাঁকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্তে মেসিরও ভূমিকা ছিল। মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনি মিলে তাঁকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানালেন রোমেরো, ‘সে আমাকে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছিল। আমার জন্য এটি অনেক বড় দায়িত্ব। তবে সে এবং অবশ্যই কোচ মিলে আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়াটা আমার জন্য অসাধারণ একটি বিষয়। গত ছয় সাত বছর আমরা একসঙ্গে ছিলাম। এই সময়ে আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।’
তবে অধিনায়কত্ব পাওয়ার আনন্দের চেয়েও মেসির সঙ্গে সম্পর্কের স্মৃতিই এখন বেশি নাড়া দিচ্ছে রোমেরোকে। জাতীয় দলে আসার পর মেসির সঙ্গে তাঁর যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে, সেটিকে নিজের জন্য বিশেষ পাওয়া হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘আমি সত্যিই তাকে ভালোবাসতাম। এরপর জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তার সঙ্গে অনেক কিছু ভাগ করে নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। ফুটবলের কারণে আমাদের মধ্যে খুব সুন্দর একটি বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল। এখন সময়টা আমার জন্য কঠিন।’
মেসির প্রতি নিজের ভালোবাসা যথেষ্টভাবে প্রকাশ করতে না পারাকেই সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রোমেরো। তিনি বলেন, ‘আমার ভালোবাসা এভাবেই প্রকাশ পায়, হয়তো কিছুটা অগোছালোভাবে, কিছুটা সাদামাটাভাবে। কিন্তু আমি তাকে বলেছি, তার প্রতি আমার যে ভালোবাসা ছিল, সেটা আমি কখনো পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারিনি। এটাই আমার আফসোস হয়ে থাকবে।’