হোম > খেলা > ফুটবল

অস্ট্রেলিয়ার হোটেল থেকে পালান ৫ ইরানি নারী ফুটবলার, ফেঁসে যান একজন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

খেলোয়াড়দের একজনকে জোর করে বাসে তোলেন সতীর্থরা—ছবিটি ভিডিও থেকে নেওয়া

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান নারী ফুটবল প্রতিযোগিতা চলাকালে ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দলের পাঁচজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার পর অন্য সদস্যদের দেশে ফেরার প্রস্তুতির সময় এক খেলোয়াড়কে জোর করে বাসে তোলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে আশ্রয় পাওয়া পাঁচ ফুটবলার ইরানি কর্মকর্তাদের ফাঁকি দিয়ে হোটেল থেকে পালান বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য টাইমস।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দেশে ফেরার জন্য ইরানের এক নারী ফুটবলারকে তাঁর সতীর্থরা শক্তভাবে ধরে বাসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। সতীর্থদের একজন তাঁকে সামনে থেকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন, আরেকজন পেছন থেকে চাপ দিয়ে বাসে উঠতে বাধ্য করেন। পরে এক খেলোয়াড়কে বিদায়ের সময় কান্না করতেও শোনা যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল।

নাটকীয়তার সূত্রপাত হয় ইরানের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত না গাওয়াকে কেন্দ্র করে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ওই ম্যাচ শুরুর আগে ইরানের খেলোয়াড়েরা জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় দেশটির রক্ষণশীল মহল তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেয়। ওই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হওয়ার দুদিন পর।

খবর অনুযায়ী, জাতীয় সংগীত না গাওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের ও তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপর পরবর্তী দুই ম্যাচে খেলোয়াড়েরা সংগীত গেয়েছেন এবং স্যালুটও করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কি নিশ্চিত করেছেন, অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ দলের পাঁচজন খেলোয়াড় মানবিক ভিসা পেয়েছেন এবং তাঁদের কুইন্সল্যান্ডে একটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে দলের অন্য সদস্যদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বাসে করে গোল্ড কোস্ট বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। তাঁরা প্রথমে সিডনি যান এবং সেখান থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর হয়ে ইরানে ফেরার কথা ছিল।

যে হোটেলে ইরানের দলটি ছিল, সেখান থেকে তাঁদের বহনকারী বাস রওনা হওয়ার সময় কয়েক ডজন মানবাধিকারকর্মী গাড়িটির সামনে শুয়ে পড়েন এবং দেশের উদ্দেশে রওনা দেওয়া খেলোয়াড়দের অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার আহ্বান জানান। কারণ, মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছিলেন, দেশে ফেরার পর খেলোয়াড়েরা রাষ্ট্রীয় হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হবেন।

খেলোয়াড়দের ইরানে ফিরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁদের বাসের সামনে শুয়ে পড়েন কিছু মানবাধিকারকর্মী। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ অবশ্য ইরানের দলটির সব খেলোয়াড়ের আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, তুরস্কে থাকা এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে ইরানে থাকা এক খেলোয়াড়ের পরিবারের কাছ থেকে গোপনে পাঠানো একটি বার্তা পাঁচজন ফুটবলারের অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই বার্তায় লেখা ছিল—‘তোমাদের এখানেই থাকতে হবে।’

এই অবস্থায় দলের সঙ্গে থাকা ইরানের কর্মকর্তাদের ফাঁকি দিয়ে পাঁচ খেলোয়াড় পালান। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের এক কর্মকর্তা তাঁদের পালাতে সাহায্য করেন। ওই কর্মকর্তা হোটেলের জরুরি বহির্গমন পথ দিয়ে তাঁদের নিচের পার্কিং এলাকায় নামিয়ে অপেক্ষমাণ গাড়িতে তুলে দেন। ইরানি কর্মকর্তারা তাঁদের ধরতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেলেও তখন দরজা বন্ধ থাকায় তাঁরা আর পলায়নরত খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।

এ ঘটনার খবর প্রথম প্রকাশ করেন ইরানের নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

গত ৮ মার্চ ফিলিপাইনের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচের আগে ইরানের নারী ফুটবল দল। ছবি: এএফপি

তবে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, খেলোয়াড়দের দেশে ফিরলে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তিনি আরও দাবি করেন, বিদেশি চাপ বা রাজনৈতিক প্রচারণা ইরানের জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে কোনো বিভাজন তৈরি করতে পারবে না।

নারী ফুটবলারদের দেশে ফিরতে বলল ইরান

ব্রাজিল দলে ফিরলেন নেইমার, তবে…

ব্রাজিলে মারামারির ঘটনায় এক ম্যাচে ২৩ লাল কার্ড

উজবেকিস্তানের কাছে হেরে পদত্যাগের ইঙ্গিত বাংলাদেশ কোচের

হতাশার হারে নারী এশিয়ান কাপ শেষ বাংলাদেশের

বিশ্বকাপ ফাইনালে না থেকেও ছিলেন কোহলি

সমীকরণের মারপ্যাঁচ ছাপিয়ে জয়ের প্রত্যাশায় বাংলাদেশ

বিলবাওয়ের বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয়ের পর কী বললেন বার্সা কোচ

মোস্তাফিজের সঙ্গে তুলনা শুনে আফঈদা যা বলছেন

‘বাংলাদেশের আগামীকালের ম্যাচটি ইঁদুর-বিড়াল খেলার মতো হবে’