‘আমরা সবকিছুই চেষ্টা করেছি। শট নিয়েছি, হেড করেছি, সেট পিস থেকেও চেষ্টা করেছি... কিন্তু কিছুই কাজ করেনি। জানি না... হয়তো কালো জাদুই আজ মাঠে কাজ করছিল!’
ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইসের এই কথাগুলো ছিল নিছক রসিকতা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-ঘানা ম্যাচ ঘিরে যা ঘটেছে, তাতে ‘কালো জাদু’ বা আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী ‘জুজু’ নিয়ে আলোচনা নতুন করে উসকে উঠেছে।
বোস্টন স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ঘানার সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে বারবার থমকে যায় থ্রি লায়ন্সদের আক্রমণ। পয়েন্ট ভাগ করার ম্যাচে ইংল্যান্ড গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করে ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে। হ্যারি কেইনের শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে। এরপর বদলি খেলোয়াড় নিকো ও’রেইলির শক্তিশালী হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে গ্যালারির এক ভিন্ন দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ঘানার কিছু সমর্থক ম্যাচ চলাকালে সাদা পাউডার ছিটিয়ে নিজেদের দলের সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করছেন। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত ‘জুজু’ সংস্কৃতির সঙ্গে মিল থাকায় বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
এর আগেই অবশ্য নাটকীয়তা তৈরি করেছিলেন ঘানার পরিচিত তান্ত্রিক ওঝা নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারকে তিনি দাবি করেছিলেন, ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ওপর এমন এক ‘অভিশাপ’ দিয়েছেন, যার ফলে এই ম্যাচে গোল করতে পারবেন না তিনি।
কাকতালীয়ভাবে ম্যাচজুড়েই গোলের দেখা পাননি কেইন। এমনকি শেষ মুহূর্তে একেবারে ফাঁকা অবস্থায় পাওয়া সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি ইংলিশ অধিনায়ক। তাঁর শট গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে বাইরে চলে গেলে বিস্মিত হয় গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকেরাও। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় মিমের বন্যা। অনেকেই মজা করে লিখতে থাকেন, ‘ঘানার ওঝার কালো জাদু সত্যিই কাজ করেছে!’
অবশ্য বাস্তবতা বলছে, ম্যাচের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ঘানার দুর্দান্ত রক্ষণ। উদ্বোধনী ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারানোর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ক্লিন শিট ধরে রেখেছে ব্ল্যাক স্টারস। দুই ম্যাচ শেষে কার্লোস কুইরোজের দল এখনো কোনো গোল হজম করেনি।