২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর বদলে যাওয়া এক ফ্রান্সকে দেখা যাচ্ছে। বিশ্বকাপ পরবর্তী নেশনস লিগে চার ম্যাচ খেলে এখনো অপরাজিত। নেপথ্যের কারিগর যে জিনেদিন জিদান, সেটা অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। তারকা ফরোয়ার্ড মাইকেল ওলিসেও কোচের ট্যাকটিকসে মুগ্ধ।
সেন্ট ডেনিসে গত রাতে নেশনস লিগে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জিদান গতকাল ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলিয়েছেন। প্রথমার্ধ ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ফ্রান্স ৪-১ গোলের দাপুটে জয়ে মাঠ ছেড়েছে। যার মধ্যে শেষ ১৩ মিনিটেই চার গোল করেছে ফরাসিরা। দাপুটে জয়ের পর ওলিসে বলেন, ‘এটা একটি দলগত প্রচেষ্টা। তিনি (জিদান) আমাদের নতুন কিছু ধারণা দেন। আমরা সেগুলো অনুসরণ করি। গত চার ম্যাচে আমরা সেটা ভালোভাবেই করতে পেরেছি। আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকব।’
নেশনস লিগের গত রাতের ম্যাচকে ওলিসে-বেলজিয়াম ম্যাচ বললেও ভুল হবে না। ফ্রান্সের চার গোলের তিনটিতে অবদান রেখেছেন তিনি। ৮৮ থেকে ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ১ মিনিট—শেষ তিন মিনিটে জোড়া গোল করেছেন। এর আগে ৮১ মিনিটে রায়ান শেরকিকে দিয়ে গোল করিয়েছেন ওলিসে। শুধু এই ম্যাচেই নয়, ফ্রান্সের হয়ে ২০২৪ সালে অভিষেকের পর থেকে ওলিসে দারুণ ছন্দে। ২৯ ম্যাচে ১১ গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন ১২ গোলে।
পিছিয়ে পড়ে জয়ের পর উচ্ছ্বসিত জিদান। বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে ফ্রান্সের কোচ বলেন, ‘আজ (গতকাল) রাতে যা খেলেছি, এটাকেই ফুটবল বলে। প্রথমার্ধে আমরা কিছুটা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম। তবে এটা খেলারই অংশ। মাঝেমধ্যে এমন ম্যাচ আসে। ভালো ব্যাপার হলো আমরা পরিস্থিতি ঠিক করে নিতে পেরেছি। দ্বিতীয়ার্ধে অসাধারণ ফুটবল খেলেছি।’
৩৫ মিনিটে দুদে লুকেবাকিও গোল করে এগিয়ে দেন বেলজিয়ামকে। তবু ফ্রান্স ঘাবড়ে যায়নি। ম্যাচের শেষ ১৩ মিনিটে ৪ গোল করেছে ফরাসিরা। ওলিসে করেন জোড়া গোল। একটি করে গোল করেন দেজিরে দুয়ে ও রায়ান শেরকি। দুয়ে শেষ ৪ মিনিটে ওলিসের দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করেছেন। যে চার গোল তিন ফুটবলার করেছেন, তাঁরা কেউই শুরুর একাদশে ছিলেন না।৬০ মিনিটে উসমান দেম্বেলের পরিবর্তে নামেন ওলিসে। দুয়েকে ৭২ মিনিটে নামানো হয় ব্রাডলি বারকোলার বদলি হিসেবে। এর আগে ৬১ মিনিটে ম্যাগনেস আগলিউসের পরিবর্তে নামেন শেরকি।
গত রাতে যে ওলিসে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট করেছেন, তার আগে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ৭ অ্যাসিস্ট করেছেন। তিনি সহ নেশনস লিগে বেলজিয়ামের বিপক্ষে বদলি ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে জিদানের কণ্ঠে ঝরেছে প্রশংসার বাণী। ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার বলেন, ‘বদলি ফুটবলাররা যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে, সেটা জানতাম। কারণ, তারা দুর্দান্ত ফুটবলার। আমার কাছে এটা দলগত পারফরম্যান্স। বদলি ফুটবলাররা খেলা ঘুরিয়ে দিলেও শিষ্যরা সবাই দারুণ খেলেছে। আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এটাই।’
এবারের নেশনস লিগ দিয়েই ফ্রান্সের কোচ হিসেবে পথচলা শুরু হয় জিদানের। চার ম্যাচ খেলে ফরাসিরা জিতেছে তিনটিতে। এক ম্যাচ ড্র করেছে। চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে নেশনস লিগের ‘এ’ গ্রুপে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন ফ্রান্স। ফরাসিদের পরের ম্যাচ ১২ নভেম্বর। নেশনস লিগে সেই ম্যাচে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ ইতালি।