বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়নস লিগ—ফুটবলে আর কী কী শিরোপা জিততে বাকি লিওনেল মেসির! বয়স ৪০ ছুঁই ছুঁই। কিন্তু যেভাবে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলেছেন, তাতে বয়সটা কেবল তাঁর কাছে নিছকই সংখ্যা। গোলের যেমন বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন, একের পর এক শিরোপাও যোগ হচ্ছে তাঁর ক্যাবিনেটে।
বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে অনুষ্ঠিত ক্যাম্পিওনেস কাপ জিতে ক্যারিয়ারের ৪৮তম শিরোপা জিতলেন মেসি। মায়ামির নু স্টেডিয়ামে ফাইনালে ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-০ গোলের জয়ে দুটি গোলেই তাঁর অবদান রয়েছে। একটি তিনি করেছেন। আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার অপর গোল করিয়েছেন কাসেমিরোকে দিয়ে। মায়ামির যেমন এটা চতুর্থ ষিরোপা, মেসিও যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন চতুর্থ শিরোপা।
শুধু ইন্টার মায়ামি তো নয়, মেসি শিরোপা জিতেছেন আর্জেন্টিনা, বার্সেলোনা, প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) হয়েও। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জিতে তিনি তাঁর আজন্মলালিত স্বপ্নপূরণ করেছেন। আর্জেন্টিনাও পায় ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ। চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকাতেও। যেখানে ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপাখরার অবসান হয়েছে। ২০২২ ফিনালিসিমা ও জিতেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
সবচেয়ে বেশি ৩৫ শিরোপা মেসি জিতেছেন বার্সেলোনার হয়েই। ২০০৪ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ১৭ বছর খেলেছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রত্যেক বছরে দুটিরও বেশি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছেন তিনি। ১০ বার জিতেছেন লা লিগা। ৮ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন স্প্যানিশ সুপার কাপে। সাতবার জিতেছেন কোপা দেল রের শিরোপা। যার মধ্যে ২০২০-২১ মৌসুমে কোপা দেল রে জিতে বার্সা পর্ব শেষ করেছেন। চারবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি তিনবার করে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ও উয়েফা সুপার কাপেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
পিএসজিতে মাত্র দুই বছর খেলেই তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলের হয়েও শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে ফিফা বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। ২০০৮ অলিম্পিক জিতেছেন আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২৩ দলের জার্সিতে।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছরের ক্যারিয়ারে মেসি ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ৬৮ গোলে। একমাত্র ফুটবলার হিসেবে দুই বিশ্বকাপে (২০১৪, ২০২২) জিতেছেন গোল্ডেন বলের পুরস্কার। গত ৩১ আগস্ট সামাজিকমাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন। সেই হিসেবে নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালটাই আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর সবশেষ ম্যাচ হওয়ার কথা। কিন্তু ঘরের মাঠে ভক্ত-সমর্থকদের আশা পূরণে আরও একবার নামবেন মেসি। ৬ অক্টোবর বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো খেলতে যাচ্ছেন বিশ্বজয়ী তারকা।
মেজর লিগ সকারের চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামি ও মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের চ্যাম্পিয়ন ক্রুজ আজুল এবার খেলেছে ক্যাম্পিওনেস কাপের ফাইনালে। মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মায়ামি জিতল এই শিরোপাও। ফাইনালের গোলসহ মেসির ক্যারিয়ারে এই নিয়ে গোল হলো ৯৩৫। বার্সেলোনার হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে করেছেন ৬৭২ গোল। আর্জেন্টিনা, ইন্টার মায়ামি, প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও বার্সেলোনা ‘বি’ দলের হয়ে তাঁর গোল ১২৫, ১০০, ৩২ ও ৬। সব মিলিয়ে খেলেছেন ১১৯৭ ম্যাচ।
বার্সেলোনা ৩৫
লা লিগা ১০
স্প্যানিশ সুপার কাপ ৮
কোপা দেল রে ৭
চ্যাম্পিয়নস লিগ ৪
উয়েফা সুপার কাপ ৩
ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ৩
পিএসজি ৩
লিগ ওয়ান ২
ট্রফি দেস চ্যাম্পিয়ন ১
ইন্টার মায়ামি ৪
লিগস কাপ ১
এমএলএস কাপ ১
সাপোর্টার্স শিল্ড ১
ক্যাম্পিওনিস কাপ ১
আর্জেন্টিনা ৪
বিশ্বকাপ ১
কোপা আমেরিকা ২
ফিনালিসিমা ১
আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ ২০০৫ যুব বিশ্বচ্যাম্পিয়ন
আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২৩ ২০০৮ অলিম্পিক