হোম > খেলা > ফুটবল

হামজার সঙ্গে বাকিদের কী পার্থক্য দেখেন বাংলাদেশ কোচ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

টমাস ডুলির সঙ্গে হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের মূল খেলোয়াড়। ছবি: বাফুফে

বাংলাদেশ দলের প্রাণভোমরা হামজা চৌধুরীর দিকে পাদপ্রদীপের আলোটা একটু বেশিই থাকে। বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে তিনি খেললে সেখানেও তাঁর নামে স্লোগান দেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাঁর পায়ে বল আসা মানেই গ্যালারি থেকে ভক্ত-সমর্থকদের উল্লাস। এই হামজার কাছ থেকে তাঁর সতীর্থদের শেখার আছে বলেই মনে করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবল কোচ টমাস ডুলি।

হামজার বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে গত বছরের মার্চে। এর পর পেরিয়ে গেছে এক বছর সাত মাস। সময়টা যেমন খুব বেশি বড় নয়, তেমনি খুব কমও নয়। এই সময়ে লাল-সবুজ দলের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাঁর সঙ্গে সতীর্থরা মানিয়ে নিতে পেরেছেন কি? এই প্রশ্নের উত্তরে কোচ টমাস ডুলির উত্তর ‘না’। আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ দলের কোচ বললেন, ‘অভিজ্ঞতা না থাকলে ভুলও বেশি হয়। এ কারণেই হামজাকে কখনো কখনো হতাশ হতে হয়। তার মাথায় একটা পরিকল্পনা থাকে। সে চায়, সতীর্থরা নির্দিষ্ট জায়গায় দৌড়াক, অথবা তাকে পাস দিক। কিন্তু সতীর্থরা সেই দৌড়টা দেয় না কিংবা পাসটাও খেলে না। কারণ, তারা বিষয়গুলো জানে না। হামজা জানে, কারণ, সে উন্নত ফুটবলকাঠামোর মধ্যে বড় হয়েছে এবং খেলেছে। ফলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হামজার পার্থক্য রয়েছে।’

হামজা বর্তমানে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের দল শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেললেও একটা সময় তিনি খেলেছেন প্রিমিয়ার লিগের দল লেস্টার সিটিতে। বড় দলে, ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ লিগে খেলার অভিজ্ঞতাই বাংলাদেশ দলের অন্যদের চেয়ে তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে বলেই মনে করেন ডুলি। বাংলাদেশের জার্সিতে ১৩ ম্যাচ খেলেছেন হামজা, করেছেন ৪ গোল। অ্যাসিস্টও আছে একটি। কখনো পানেনকা শট কিংবা কখনো বাইসাইকেল কিকে চোখধাঁধানো গোলও করেছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে পুরো মাঠজুড়েই দেখা যায় এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের পদচারণা। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রায়ই এই মন্তব্য করেন, ‘হামজার গোলরক্ষক হওয়াটাই বাকি।’ ডুলির চোখে হামজা এমন এক খেলোয়াড় যিনি সব ভূমিকাতে খেলতে পারদর্শী। কোচের ভাষায়, ‘হামজা ইজ এভরিথিং। আমার মনে হয়, সে চাইলে গোলরক্ষক হিসেবেও খেলতে পারবে! সে এমন একজন খেলোয়াড়, যে সব জায়গায় সাহায্য করতে চায়। যেখানে তাকে প্রয়োজন, সেখানেই সে থাকতে চায়। সে নিঃসন্দেহে আমাদের দলের মূল খেলোয়াড়।’

হামজা আসার পর গত দেড় বছরে বাংলাদেশ কেবল তিন ম্যাচ জিতেছে। বেশির ভাগ সময় হারই সঙ্গী হয়েছে। এই তো সবশেষ আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ডুলি স্থানীয় ফুটবলারদের ‘ফুটবল সেন্স’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, দর্শকেরা খেলা দেখার সময় যা ভাবেন, বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকার বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘স্থানীয় ফুটবলারদের আসল সমস্যা হলো ফুটবলীয় জ্ঞানের অভাব। টেলিভিশনে খেলা দেখার সময় সমর্থকেরা ভাবেন, সে কেন এই খেলোয়াড়কে পাস দিল না? কেন ওই দিকে গেল না? বাইরে থেকে বিষয়গুলো খুব সহজ মনে হয়। কিন্তু মাঠে পরিস্থিতি ভিন্ন। খেলোয়াড়েরা অনেক সময় বল ক্রস করার চেষ্টা করে। কিন্তু ঠিকমতো করতে পারে না। কারণ, তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা হয়নি।’

সিদ্ধান্ত নিতে তিনটা বিষয় থাকা দরকার বলে মনে করেন ডুলি। তিনি বলেন, ‘বল কোথায়, প্রতিপক্ষ কোথায় এবং আমার সতীর্থরা কোথায়—এই তিনটি বিষয় বুঝতে পারলে আপনি ঠিক করতে পারবেন, এখন কোথায় যাওয়া উচিত। বাংলাদেশে খেলোয়াড় তৈরির ব্যবস্থার অন্যতম সমস্যা হলো, খেলোয়াড়েরা ছোটবেলা থেকে এসব শেখার সুযোগ পায় না। হামজার মতো দক্ষ খেলোয়াড় বল নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি অন্য জায়গায় কী হচ্ছে, সেটাও দেখতে পারে। ফুটবল হলো পরবর্তী দু-তিন সেকেন্ডে কী ঘটতে পারে, সেটা আগে থেকে বুঝতে পারার খেলা।’ যেটা হামজার মতো ফুটবলার বুঝতে পারেন। আর এটাই দলের বাকিদের সঙ্গে তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে।

কোচের চোখে জিদান-ফারহান-শুকি কেমন

কিংস-মোহামেডানের দাপুটে জয়

মেসিকে নিয়ে ২৬ বছরের পুরোনো তিন প্রতিবেদন ফাঁস

মার্তিনেসকে নিয়ে বিপাকে আর্জেন্টিনাও

বিপদে বোনকে পাশে পেলেন রোনালদো

ক্ষমা চাওয়ার পরও শাস্তি পেয়েছেন মার্তিনেস

ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন ফিফা সভাপতি

সাফে রোনান সুলিভানকে পাচ্ছে বাংলাদেশ

মেসিবিহীন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ এবার কারা

রেফারিদের ধুয়ে দিলেন ভিনি