গোল করার লোক খুঁজতে গিয়ে রক্ষণভাগের এক খেলোয়াড়ের ওপরই ভরসা করতে হয়েছিল টমাস ডুলিকে। সান মারিনোর বিপক্ষে সেই পরীক্ষায় মন্দ করেননি বিশ্বনাথ ঘোষ। জয়সূচক গোলে সহায়তা করেছেন, গোলের সুযোগও তৈরি করেছেন একাধিকবার। কিন্তু আসিয়ান কাপ খেলতে যাওয়ার আগে সেই বিকল্পটিও হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে অন্তত চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে বিশ্বনাথকে।
তাতে আবারও সামনে এসেছে বাংলাদেশের পুরোনো সমস্যা—প্রথাগত ‘নাম্বার নাইন’ কোথায়? জাতীয় দলের কোচ ডুলির উত্তরটা অবশ্য শুধু বর্তমান স্কোয়াডে খুঁজে পাচ্ছেন না। সমস্যাটার শিকড় তিনি দেখছেন ঘরোয়া ফুটবলে।
ডুলির যুক্তি, দেশের ক্লাবগুলোতে নিয়মিত বিদেশি ফরোয়ার্ডরা খেলায় স্থানীয় স্ট্রাইকারদের উঠে আসার সুযোগ কম। ফলে জাতীয় দলে এসে গোল করার দায়িত্ব নেওয়ার মতো স্বীকৃত স্ট্রাইকারের সংকট তৈরি হয়েছে।
ডুলি বলেন, ‘আমাদের কোনো প্রথাগত নাম্বার নাইন নেই। প্রশ্ন হলো, আমাদের লিগে কেন কোনো নাম্বার নাইন তৈরি হচ্ছে না? প্রতিটি ক্লাবেই একজন বিদেশি নাম্বার নাইন খেলছে। ফলে আমরা নাম্বার নাইন তৈরি করছি না।’
সান মারিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে বিশ্বনাথকে রক্ষণ থেকে সামনে তুলে আনার ভাবনাটা কাজে লেগেছিল। প্রতিপক্ষের রক্ষণেও চাপ তৈরি করেছিলেন বারবার। এই পারফরম্যান্সের পর বিশ্বনাথকে শুধু ডিফেন্ডার হিসেবে দেখছেন না ডুলি। তাঁর আগ্রাসী মানসিকতাকেও আক্রমণভাগে কাজে লাগানোর কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু চোট সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বনাথের জায়গায় এখন নতুন সমাধান খুঁজতে হচ্ছে কোচকে। রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন ও শাহরিয়ার ইমনদের সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা দেখছেন ডুলি, ‘আমাদের কাউকে খুঁজে বের করতে হবে এবং এমন জায়গায় খেলাতে হবে, যেখানে সে সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে দলকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে। কে হবে, সেটা আমরা এখনো জানি না। আমার কিছু ধারণা আছে—রাকিব, মোরসালিন কিংবা ইমন? আমাদের দেখতে হবে কে এগিয়ে আসে।’
বিশ্বনাথ ছিটকে যাওয়ার মাঝেই তপু বর্মন, জামাল ভূঁইয়া ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিমও চোটে আছেন। তবে আসিয়ান কাপের আগেই তাঁদের সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করছেন ডুলি।