রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ গোলে হারিয়ে লা লিগায় জয়ে ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। বড় ব্যবধানে জিতেও দলের পারফরম্যান্সের কিছু দিক নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না প্রধান কোচ জোসে মরিনিও। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে দলের শারীরিক ও মানসিক শক্তি কমে যাওয়া এবং সুযোগ নষ্টের প্রবণতা ভাবাচ্ছে তাঁকে।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ভায়োকানোর বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রিয়াল। ১৪ মিনিটে স্পট কিকে গোল করে স্বাগতিকদের লিড এনে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই অর্ধে আরও একবার করে জালের দেখা পান আলভারো কারেরাস ও জুড বেলিংহাম। দ্বিতীয়ার্ধে সার্জিও কামেয়ো ভায়োকানোর হয়ে একটি গোল শোধ করলেও যোগ করা সময়ে রিয়ালের হয়ে ব্যবধান এমবাপ্পে।
ম্যাচ শেষে মরিনিও বলেন, ‘এটি ছিল ৪৫ মিনিটের ম্যাচ। সেখানেই শেষ। আর কিছু বলার নেই। আমি জানতাম, প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধ খেলার মতো শারীরিক বা মানসিক শক্তি দলের ছিল না।’
দলের সমালোচনা করে মরিনিও আরও বলেন, ‘শক্তি শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। আমাদের মনোযোগের মাত্রা কমে গিয়েছিল, বল পায়ে ভুল করেছি এবং বিল্ড-আপে বল হারিয়েছি। প্রেসিংয়েও আমাদের সমস্যা হয়েছে। প্রথমার্ধে রায়ো কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি, কিন্তু পরে তারা আমাদের গোলে বেশি শট নিয়েছে।’
চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের মাত্র তিন দিন পর ভায়োকানোর মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল। তাই ম্যাচের শেষ দিকে খেলোয়াড়েরা ক্লান্ত হয়ে পড়বে, সেটা জানাই ছিল মরিনিওর। তাঁর লক্ষ্য ছিল শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্রুত সেটি শেষ করে দেওয়া, ‘লক্ষ্য ছিল শক্তভাবে শুরু করা এবং দ্রুত ম্যাচ শেষ করে দেওয়া। আমরা সেটি করতে পেরেছি।’
তবে বড় জয় পেলেও সুযোগ নষ্টের বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে সতর্ক করেছেন মরিনিও। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক গোল করি, তবে প্রচুর সুযোগও নষ্ট করি। এমন একটি দিন আসবে, যেদিন সুযোগ নষ্ট করার জন্য কোনো একটি দলকে শাস্তি পেতে হবে। সেদিন আমরা যে ছয়-সাতটি সুযোগ নষ্ট করি, সেগুলোর সবই গোলে পরিণত হবে।’
সমালোচনার ভীড়ে শিষ্যদের প্রশংসা করতেও ভুলেননি মরিনিও, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচের পর আমরা যেভাবে কাজ করেছি, বিষয়টি শুধু শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, মানসিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছু পরিবর্তন এনেছি, মাঝমাঠে স্থিতিশীলতা দিয়েছি এবং সেটাও আমরা পেয়েছি। খেলোয়াড়েরা আমার সম্মান ও প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।’