ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে নিজের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী লামিনে ইয়ামাল। তবে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের পুরস্কারটি জিততে নিজের পক্ষে প্রচারণা চালানো কিংবা কারও কাছে অনুরোধ করার প্রয়োজন মনে করছেন না ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগামীকাল রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ফেইনুর্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বার্সা। সে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্যালন ডি’অর নিয়ে কথা বলেন ইয়ামাল। নিজের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, এটা আমার ওপর নির্ভর করে না, আপনাদের ওপর নির্ভর করে। দল ও জাতীয় দলের হয়ে আমরা যে কাজ করেছি, তা অসাধারণ। যদি এটা (ব্যালন ডি’অর) হয়, তাহলে প্রথমেই আমি আমার দল ও জাতীয় দলকে ধন্যবাদ জানাব। আমার মনে হয়, আমার খুব ভালো সুযোগ আছে। তবে দেখা যাক।’
নিজেকে পুরস্কারের দাবিদার প্রমাণ করতে আলাদা কোনো প্রচারণায় যাওয়ার ইচ্ছাও নেই ইয়ামালের, ‘আমার মনে হয় না, আমাকে সেটা করতে হবে। আমি এটা নিয়ে ভাবছি না। আমি আমার দল ও জাতীয় দল নিয়ে গর্বিত। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার নেই। এটা আপনাদের কাজ। আমি কোনো কিছুর জন্য অনুরোধ করতে শুরু করব না।’
এর আগের দিন কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্যালন ডি’অর জয়ের পক্ষে নিজের যোগ্যতার কথা তুলে ধরেছিলেন। অন্যদিকে উসমান দেম্বেলে সম্ভাব্য ফেভারিটদের তালিকায় ইয়ামালকে না রাখায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। জবাবে রসিকতার সুরে ইয়ামাল বলেন, ‘কে আমাকে সেরা তিনে রাখেনি? দেম্বেলে? সে তো কিলিয়ানের বন্ধু, তাই না? আমি খুব খুশি। দুজনের বিপক্ষে একসঙ্গে যখন খেলেছি, কোনো কারণে হয়তো তাঁদের কাছে আমি খুব একটা ভালো লাগিনি। তবে উসমানের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক।’
দেম্বেলে ও এমবাপ্পের বিপক্ষে সর্বশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছিলেন ইয়ামাল। সেই ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। এর আগে ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালেও ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন, যেখানে দুর্দান্ত গোল করেছিলেন ইয়ামাল।
তবে ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে এখন ইয়ামালের কাছে বড় লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। তিনি বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এখনও জেতার সুযোগ আছে—এটা জানার চেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আর কিছু হতে পারে না। এই প্রতিযোগিতাটাই এখন আমাদের জেতা বাকি। আমাদের দলে রদ্রি, গর্ডন ও আদেয়েমির মতো দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে। আমরা চেষ্টা করব।’
১৯ বছর বয়সেই বার্সার অধিনায়ক হওয়ার দায়িত্ব পাওয়াকেও গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন ইয়ামাল, ‘১৯ বছর বয়সে বার্সার অধিনায়ক হওয়া সম্মানের। সতীর্থদের প্রতি আমি খুবই কৃতজ্ঞ। এটি আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। আমার বয়স ১৯ হলেও দলের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’