বাংলাদেশ দলে কোচ হিসেবে টমাস ডুলি পেয়েছেন মাত্র চার ম্যাচ। বেশি ম্যাচের সুযোগ পাবেনই বা কী করে! এসেছেন মাত্র পাঁচ মাস আগে। তবে এই অল্প সময়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে পেরেছেন তিনি।
এ বছরের মে মাসে ডুলি বাংলাদেশের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। দেশের মানুষদের আন্তরিকতা দেখে মুগ্ধ তিনি। আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আতিথেয়তার যেমন প্রশংসা করেছেন, তেমনি তিনি মজার ছলে নেটিজেনদের কথাও উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আসলে অনেক ভালো মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। আমি যে হোটেলগুলোতে থেকেছি, সেখানকার মানুষ, রাস্তায় দেখা হওয়া মানুষ-অনেকেই এগিয়ে এসে কথা বলেছেন। ছবি তুলেছেন। সবাই খুব আন্তরিক। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ আমাদের এমনভাবে ঘৃণা করে, যেন আমরা তাদের শত্রু (হাসি)!’
শিশুরা তো বটেই, অবসরে দেশের আনাচে-কানাচে ফুটবল নিয়ে যুবকেরাও মেতে ওঠেন। স্টাম্প, ব্যাট, বল নিয়ে অনেকে ক্রিকেট খেলতেও নেমে যান। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজদের খেলা দেখে অনেকেই ক্রিকেট নিয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকেন। মেজর কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা না জিতলেও মনে রাখার মতো অনেক কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
ডুলি অবশ্য ক্রিকেট পছন্দ করেন না। এমনকি এই খেলা সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণাই নেই। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘না (ক্রিকেট পছন্দ করার ব্যাপার)। ক্রিকেট সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই! জার্মানিতে ক্রিকেট নেই। যুক্তরাষ্ট্রে আমি যেখানে ছিলাম, সেখানেও ক্রিকেট ছিল না। তাই ক্রিকেট সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।’
হামজা চৌধুরী, ফাহামিদুল ইসলাম, শুকি ইতফুসা, শমিত সোম, জিদান ইউসুফ—বাংলাদেশের ফুটবলে এখন প্রবাসীদের ছড়াছড়ি। তা দেখে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের ফুটবল নিয়ে আগ্রহ অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে হামজাকে দেখলেই গ্যালারি ‘হামজা, হামজা’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।
স্থানীয়, প্রবাসী খেলোয়াড়দের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে ডুলি বলেন, ‘এ ধরনের খেলোয়াড় নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে বুঝতে হবে—নাগরিকত্ব পরিবর্তন করে খেলা খেলোয়াড় আর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার। আমি সব সময় এ ধরনের খেলোয়াড়দের সমর্থন করি। কারণ, আমিও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলেছি। জার্মানিতে থাকতাম, জার্মানির নাগরিকত্বও ছিল, কিন্তু জন্মসূত্রে আমি আমেরিকান। আমার যদি দুটি দেশের নাগরিকত্ব থাকে এবং আমি সেই দুই দেশের যেকোনো একটির হয়ে খেলতে না পারি, তাহলে সেটা তো অন্যায় হবে। কিন্তু শুধু নাগরিকত্ব পরিবর্তন করে জাতীয় দলে খেলার বিষয়টি সমর্থন করি না।’