নেইমারের ফেরার ম্যাচে নাটকীয়তা তো একেবারে কম ছিল না। তাঁস-বাটার মতো করে উদযাপন, দলকে বাঁচানো, পেলেন নিষেধাজ্ঞা—কী না হয়েছে তাঁর ফেরার ম্যাচে! হয়তো দিনটিকে চাইলে ক্যালেন্ডারের পাতায় বিশেষভাবে দাগিয়েও রাখতে পারেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিল ছিটকে যাওয়ার পর নেইমার এবারই প্রথম খেলতে নেমেছেন। বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে অনুষ্ঠিত সিরি ‘আ’র ম্যাচে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন তিনি। কালদেইরাতে প্রথম গোলের পর তিনি তাঁস বাটার মতো উদযাপন করে যেমন নজর কেড়েছেন, পেয়েছেন শাস্তিও। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফাউল করে দেখলেন হলুদ কার্ড। আগে একটি হলুদ কার্ড পাওয়ায় সিরি ‘আ’তে পরের ম্যাচে খেলতে পারছেন না ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপ ফুটবলের পর প্রথম ম্যাচ খেলার আগে নেইমার অংশ নিয়েছিলেন ‘ব্রাজিলিয়ান পোকার চ্যাম্পিয়নশিপে’। সেই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করায় যখন সমালোচনা তুঙ্গে, নেইমার জবাব দিতে বেছে নিলেন শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে এই ম্যাচকেই। ৩৬ মিনিটে ম্যাচে প্রথম গোল করার পর দর্শকদের উদ্দেশ্যে তাস বাঁটার অঙ্গভঙ্গি করেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড।
সান্তোস প্রথমার্ধ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ১১ মিনিটের মাথায় জোড়া গোলে ব্যবধান বাড়ায় শাপেকোয়েন্স। ৫১ মিনিটে মরিসিওর গোলে সমতায় ফেরে ক্লাবটি। আর ৬২ মিনিটে সান্তোস ডিফেন্ডার জোয়াও আনাসিয়াস করেন আত্মঘাতী গোল। কিছুক্ষণ পর শাপেকোয়েন্সের এক ফুটবলার ফাউল করলে নেইমার উঠে গিয়ে পেছন থেকে তাঁকে ধাক্কা দেন। রেফারি সেই খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখালে শাপেকোয়েন্সের আরেক ফুটবলার এগিয় আসেন। নেইমার তাঁকেও ধাক্কা মারলে রেফারি বের করেন হলুদ কার্ড। জোড়া হলুদ কার্ড থাকায় সিরি ‘আ’-এর পরের ম্যাচে সান্তোসকে নামতে হবে নেইমারকে ছাড়াই।
দলের হার যখন সময়ের ব্যাপার, তখন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন নেইমার। ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করেন সমতাসূচক গোল। কালদেইরাতে সিরি ‘আ’র সান্তোস-শাপেকোয়েন্স ম্যাচ ড্র হয় ২-২ গোলে।
৫ জুলাই নিউজার্সিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে পেনাল্টিতে শেষ মুহূর্তে গোল করেছিলেন নেইমার। সেদিন তিনি গোল করলেও ২-১ গোলে হেরে গিয়েছিল ব্রাজিল। সেবার দলকে বাঁচাতে না পারলেও আজ উদ্ধার করেছেন সান্তোসকে।
২০ ম্যাচে ৫ জয়, ৭ ড্র ও ৮ হারে সান্তোসের পয়েন্ট এখন ২২। বর্তমানে সিরি ‘আ’র পয়েন্ট তালিকায় দলটি অবস্থান করছে ১৪ নম্বরে। ২০ দলের টুর্নামেন্টে সবার নিচে থাকা শাপেকোয়েন্সের পয়েন্ট ১০। তারাও খেলেছে ২০ ম্যাচ। ১৯ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে পালমেইরাস।