ফিফার কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকেটের টাকা ফেরত চেয়েছে ডিআর কঙ্গো। ইবোলা প্রাদুর্ভাবজনিত স্বাস্থ্য বিধিনিষেধের কারণে দেশটির সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে হাজারো কঙ্গোলিজ ভক্তের।
১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে নামছে কঙ্গো। দলটির এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন উৎসবের পরিবর্তে এখন ঢাকা পড়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসংকটের ছায়ায়।
গত ১৬ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ গত ২১ দিনের মধ্যে কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদানে অবস্থান করেছেন এমন যেকোনো ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে কিনশাসায় মার্কিন দূতাবাস ভিসা সেবাও স্থগিত করে দেয়।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৯০০-এরও বেশি সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ২২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ সংক্রমণই কঙ্গোতে।
এই পরিস্থিতিতে ডিআর কঙ্গোর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ভেরন মোসেঙ্গো-ওম্বা ফিফার প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ফিফাকে এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে বলেছি, কারণ টিকেটের দাম অনেক বেশি। আমাদের সমর্থকেরা শাস্তি পাচ্ছেন, অথচ তারা শুধু তাদের দলকে সমর্থন করতে চেয়েছিলেন। আমরা চাই না তারা সব অর্থ হারান।’
২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত হচ্ছে। ফিফার গতিশীল মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির কারণে এবারের টিকেটের দাম ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাত গুণ পর্যন্ত বেশি।
ডিআর কঙ্গো ১৭ জুন হিউস্টনে পর্তুগালের বিপক্ষে মাঠে নামবে। মার্কিন বিধিনিষেধ মেনে চলতে হলে সমর্থকদের কয়েক সপ্তাহ আগেই দেশ ছাড়তে হতো। এই বাস্তবতায় অনেকেই এখন কেবল মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি দেখতে যাওয়ার কথা ভাবছেন।
বিষয়টি নিয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ফিফা জানিয়েছে, যথাসময়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে তারা। সাধারণত ম্যাচ বাতিলের মতো অসাধারণ পরিস্থিতি ছাড়া ফিফা অর্থ ফেরতের পরিবর্তে টিকেট পুনরায় বিক্রি বা হস্তান্তরকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
জাতীয় দলের অবশ্য এই বিধিনিষেধে পড়ার আশঙ্কা নেই। দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় বিদেশে খেলেন। যারা কঙ্গোতে ছিলেন, তাঁরা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কোয়ারেন্টিন মেনে দেশ ছেড়েছেন। দলটি কিনশাসায় ক্যাম্প বাতিল করে এখন বেলজিয়ামে একত্রিত হচ্ছে এবং সেখান থেকে যাবে টেক্সাসে।
মোসেঙ্গো-ওম্বা বলেন, ‘মানুষ তাদের সব সমস্যা ভুলে লেপার্ডসদের পেছনে ছুটছে। কঙ্গো থেকে আসা মানেই ইবোলা নয়। কঙ্গো বিশাল একটি দেশ এবং আমরা এই রোগের সঙ্গে অনেকবার লড়েছি। বিশ্বের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’