হোম > খেলা > ক্রিকেট

‘এখনই বাংলাদেশ ফাইনাল নিয়ে ভাবছে না, ধাপে ধাপে এগোতে চাচ্ছি’

ক্রীড়া ডেস্ক    

ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল খেলতে বাংলাদেশের সামনে এখন সমীকরণ কী—গতকাল ডারউইনে ৯ উইকেটের জয়ের পর এই আলোচনাটা চলছে বেশি। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার মাঠে প্রথমবারের মতো টেস্টে জিতে ক্রিকেটার, ভক্ত-সমর্থকদের আশা-প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশনসের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীসও সুর মেলালেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে।

অস্ট্রেলিয়াকে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অজিরা। ডারউইনে গতকাল ৯ উইকেটে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক শান্ত জানিয়েছিলেন, অত দূর না ভেবে ধীরে ধীরে এগোতে চায় তাঁর দল। বিসিবি সভাপতি তামিমও গাণিতিকভাবে বাংলাদেশের সমূহ সম্ভাবনা দেখলেও তাঁর ভাবনা শান্তর মতোই।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল লক্ষ করে বিসিবি কী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে—শাহরিয়ার নাফীসকে আজ সাংবাদিকেরা জিজ্ঞেস করেছেন এ ব্যাপারে। সংবাদমাধ্যমকে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনসের ইনচার্জ বলেন, ‘বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ একটা জটিল সমীকরণ। দুই বছরের টুর্নামেন্টে কেবল দুইটা দল ফাইনাল খেলে। বাস্তবিক ও সমীকরণগত দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক ওপরে। এখন যে সমীকরণটা আছে, যেকোনো দলের জন্য অনেকগুলো দলেরই দারুণ সম্ভাবনা আছে। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট বা অধিনায়ক এটা খুব স্পষ্টভাবে বলেছে যে আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ জিততে চাই।’

২০২৫-২৭ চক্রে দুই ও তিনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের সফলতার হার ৭৫ ও ৭২.২২ শতাংশ। ভারত ও শ্রীলঙ্কারও সামান্য সম্ভাবনা আছে ফাইনাল খেলার। ৪৮.১৫ ও ৪১.৬৭ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে বর্তমানে পাঁচ ও ছয়ে অবস্থান করছে ভারত-শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের সমান্তরালে চলছে ভারত-শ্রীলঙ্কা দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজও।

শাহরিয়ার নাফীসের মতে সমীকরণ নিয়ে অত চিন্তা না করে ধাপে ধাপে এগোনোই ভালো। আজ সংবাদমাধ্যমকে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনসের ইনচার্জ বলেন, এরপরে আরও আমাদের সাতটা টেস্ট ম্যাচ বাকি আছে। এখন এটা নিয়ে তাই চিন্তা না করে, আমাদের সামনে যে বর্তমানে যে টেস্ট ম্যাচটা আছে, ম্যাচ ধরে যদি যদি এগোনো যায়, সমীকরণের জায়গা... গাণিতিক সমীকরণ জানি যখন মেলার, সেটা তখন মিলেই যাবে।’

ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রশংসায় ভাসছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।মাঠেই শান্ত-মুশফিকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। প্রবাসীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন তাঁরা। সেই রেশ ছড়িয়ে পড়েছে ড্রেসিংরুমেও। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজ-শরীফুল ইসলাম-তাইজুল ইসলাম-তাসকিন আহমেদদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ, ম্যানেজার নাফিস ইকবাল গেয়েছেন ‘আমরা করব জয়’ গান। এমনকি বিসিবিতেও কেক কেটে এই জয় উদযাপন করা হয়েছে গতকাল।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় নিয়ে বিসিবির বিশেষ কোনো পরিকল্পনা কি আছে—সে ব্যাপারে অবশ্য বিস্তারিত বলেননি নাফীস। আজ সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘দেখুন, ক্রিকেট বোর্ডের যে পরিকল্পনা, সেক্ষেত্রে বোর্ড তো আছে। সম্মানিত বোর্ড পরিচালক আছেন। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন বা তারা চিন্তাভাবনা করবেন। তবে তাদের সঙ্গে যতটুকু কথা হয়েছে, তারা অবশ্যই উদযাপন করেছে।’

টেস্টে নিজেদের ২৬ বছরে ১৬০ টেস্ট খেলে ২৮ টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে ঘরে ১৮ এবং বিদেশে ১০ টেস্ট জিতেছে তারা। ডারউইনে গতকাল ঐতিহাসিক জয়ের পর উদযাপন করলেও শান্তর দল আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে না বলে জানিয়েছেন নাফীস। আজ সাংবাদিকদের বিসিবি ক্রিকেট অপারেশনসের ইনচার্জ বলেন, ‘তাদের কথা শুনে মনে হয়েছে তারা খুব বেশি আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে না। তারা পরবর্তী ম্যাচের জন্য অবশ্যই উপভোগ করেছে। কিন্তু পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে অনেক বেশি ভাবছে। তাদের কণ্ঠে অনেক খুশি প্রকাশ পেয়েছে। তবে থাকে না যে একটা ম্যাচ জিতলাম সবকিছু শেষ হয়ে গেল—এরকম অবস্থায় নেই।’

সবশেষ ২০২৩-২৫ চক্রে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতার হার ছিল ৬৯.৪৪ ও ৬৭.৫৪ শতাংশ। তিনে থাকা ভারতের সফলতার হার ছিল ৫০ শতাংশ। এদিকে ম্যাকেতে ২২ আগস্ট শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্টের পর আরও ৬ ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশের। যার মধ্যে চারটি ঘরের মাঠে এবং দুটি বিদেশে খেলবেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজরা।

নাফীসের ভাবনা আপাতত বর্তমান নিয়েই। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের ইনচার্জ আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন এটা আপনি এক বছর বা দেড় বছর পরের একটা টুর্নামেন্টে কখন কী হবে, এটা বলে তো আর আপনি এখনই এটা নিয়ে কাজ করতে পারবেন না। কারণ, আমরা বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে বেশি এগিয়ে চিন্তা করতে চাই না। আমার মতে বর্তমান নিয়ে যদি ফোকাস করি, ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।’

যদি অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাকেতে হারাতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের সফলতার হার হবে ৭২.২২ শতাংশ। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি করে টেস্ট রয়েছে শান্তদের। বিদেশের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ রয়েছে বাংলাদেশের। আর লন্ডনের ওভালে আগামী বছরের ৯ জুন শুরু হবে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল।