হোম > খেলা > ক্রিকেট

‘বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে মোটেও অবাক হইনি, জানতাম তারা ভালো দল’

ক্রীড়া ডেস্ক    

প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পরও প্রতিপক্ষকে নিয়ে কোনো বিস্ময় নেই অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের। বরং তাঁর দাবি, বাংলাদেশ যে ভালো দল, সেটি আগেই তাঁদের জানা ছিল। প্রথম দিনের পরই ম্যাচটা কঠিন হতে যাচ্ছে সেটিও বুঝে গিয়েছিলেন তাঁরা।

প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে অবাক হয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গ্রিন বলেন, ‘না, বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমরা জানতাম ওরা ভালো দল। তারা দুর্দান্ত খেলেছে। প্রথম দিনের পর আমাদের আর ম্যাচে ফিরতে দেয়নি। প্রথম দিনের পরই জানতাম সামনে আমাদের কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। ওরা আমাদের আর লড়াইয়ের সুযোগই দেয়নি। আমরা অনেক ধরনের চেষ্টা করলেও কোনো কিছুই কাজে আসেনি।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের ম্যাচেই অবশ্য নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন গ্রিন। ১০৪ রানের ইনিংস খেলেও দলের পরাজয়ে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ তিনি, ‘আপনি সব সময় দলের সাফল্যের জন্যই খেলেন। যখন আপনি ভালো করেন কিন্তু দল ভালো করতে পারে না, খারাপ তো লাগেই। আরও কিছু রান করতে পারলে আমরা ম্যাচে থাকতাম।’

ঘরের মাঠে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পাওয়ার পেছনে ছিল নিজের পুরোনো ব্যাটিংয়ে ফিরে যাওয়া। মার্চে শেফিল্ড শিল্ডে ১৩৫ রান করার পর নিজের ব্যাটিং নিয়ে কিছু টেকনিক্যাল নোট লিখে রেখেছিলেন গ্রিন। ডারউইনে নামার আগে সেই নোটই আবার দেখে নেন তিনি। গ্রিনের ভাষায়, ‘যা কাজে এসেছিল, সেখানে ফিরে যাওয়া এবং নিজেকে সেটা স্মরণ করিয়ে দেওয়া সত্যিই দারুণ। টেস্ট ক্রিকেটে ১০ ওভারে সেঞ্চুরি করা যায় না। সেখানে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা ব্যাট করতে হয়।’

গত কয়েক বছরে নিজের ব্যাটিংয়ে কিছুটা বেশি পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান তিনি। ডারউইনে তাই সবকিছু সহজ রেখে পুরোনো ধারায় ফেরেন, ‘আমার মনে হয়, গত কয়েক বছরে আমি খেলায় খানিকটা অহেতুক পরিবর্তন এনে ফেলেছিলাম, জোর করে নতুন কিছু করার চেষ্টা করছিলাম। শিল্ডের ওই ম্যাচের পর একটা স্পষ্ট ধারণা পেয়েছিলাম। অতীতে যা ভালো লেগেছে এবং কাজে দিয়েছে, সেখানে ফিরে যাওয়াটাই করেছি।’

ট্রাভিস হেডের সঙ্গে নিজের ব্যাটিংয়ের পার্থক্যও তুলে ধরেছেন গ্রিন, ‘হেড অবিশ্বাস্য ক্রিকেটার। এমন একজন ক্রিকেটার যে প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলার মেজাজে থাকে। এটা কখনোই আমার খেলা ছিল না। তাই আমার কাছে যা স্বাভাবিক, সারা জীবন যা করে এসেছি, সেটাতেই ফিরে গিয়েছি।’

হেডের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়েও সতীর্থের পাশে দাঁড়িয়েছেন গ্রিন। ম্যাকাইতে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমি আশাবাদী সে আবারও ভালো করবে। তার অনেক সাফল্য আছে। এ মুহূর্তে হয়তো ভালো করছে না। তবে আমরা সবাই ভরসা রাখছি।’

ম্যাকাইয়ে পরের টেস্টের উইকেট নিয়েও আশাবাদী গ্রিন। তাঁর প্রত্যাশা, বাউন্স ও গতি থাকবে, ‘এখানে অনেক সুন্দর উইকেট হয়। সাদা বল ও লাল বলের ক্রিকেট অবশ্য ভিন্ন। আমরা খুব ভালো উইকেট আশা করছি। বাউন্স থাকবে এবং ফাস্ট হবে।’