হোম > খেলা > ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কত রান করলে সেটা বাংলাদেশের জন্য ‘নিরাপদ’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫৩ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

ডারউইনে প্রথম টেস্টের দুই দিনের অবস্থা দেখে বাংলাদেশকে চালকের আসনে বলে দেওয়াই যায়। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের ১৫৩ রানের লিড তো পেয়েছেই। হাতে এখনো তাদের ৪ উইকেট বাকি। এমন অবস্থায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে স্কোরটা যত বড় করা যায়, সেই পরিকল্পনাই করছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একেবারে খেলার অভিজ্ঞতা নেই তা নয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের যে দলটা টেস্ট খেলছে, তাদের কারোরই এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলা হয়নি। ২৩ বছর পর ডারউইনের এই ভেন্যুতে খেলাটা তানজিদ তামিম-শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজদের কাছে ‘অচেনা’ ভেন্যুতে খেলার সমানই। এখন বর্তমানে ম্যাচের যে অবস্থা, তাতে কত রান করলে বাংলাদেশ জিততে পারবে, এই কৌতূহল কাজ করছে অনেকের। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লায় ৪২৭ রান করেও বাংলাদেশ হেরেছিল অস্ট্রেলিয়ার কাছে।

ডারউইনে আজ দ্বিতীয় দিনের খেলা বাংলাদেশ শেষ করেছে ৬ উইকেটে ৩৫১ রানে। মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ ৩২ ও ১৩ রানে ব্যাটিং করছেন। স্কোরবোর্ডে কত রান তুলতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার জন্য সেটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে—দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তানজিদ তামিম বলেন, ‘আসলে দেখুন, যেহেতু আমাদের হাতে এখনো তিন দিন অনেক লম্বা সময় আছে। আমরা চাইব যত বেশি সেশন ব্যাটিং করা যায়, তত আমাদের জন্য ভালো। যত বেশি রান দেওয়া যায় তাদের সামনে, তত আমাদের বোলারদের জন্য কাজটা সহজ হবে।’

নাথান লায়নের বল লং অফে ঠেলে তানজিদ তামিম যেভাবে উড়ছিলেন, সেটার সঙ্গে ২০১০ সালে লর্ডসে তামিম ইকবালের উদযাপনের ছবি জোড়া লাগিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটা ফটোকার্ড ভাইরাল। ১৬ বছর আগে তামিমও সেঞ্চুরির পর শূন্যে উড়েছিলেন। আজ আরেক তামিম তাঁর টেস্টের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রথম সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন। সেঞ্চুরির পর তানজিদ তামিম ডারউইনে হেলমেট ও ব্যাট উঁচিয়ে দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দিয়েছেন।

ডারউইনে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে তানজিদ তামিম যখন সংবাদ সম্মেলনে আসেন, তাঁর কাছে সেঞ্চুরি নিয়েই বেশি প্রশ্ন এসেছে। তিন অঙ্ক ছুঁয়ে কি তামিম ইকবালের কথা মনে পড়েছে—উত্তরে তানজিদ বলেন, ‘না, এরকম মনে পড়েনি। তবে সেঞ্চুরিটা যেহেতু অবশ্যই স্পেশাল, সেটা বাবা-মার জন্য দিতে চাই আরকি।’

সেঞ্চুরির পর তানজিদ তামিম কেবল ১ রান যোগ করতে পেরেছেন। ১৯৭ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় করেন ১০১ রান। তিনি আউট হওয়ার পর চতুর্থ উইকেটে ৯৮ বলে ৬৬ রানের জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শান্ত টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া থেকে ১৬ রান আগে আউট হয়েছেন। তিনি (৮৪), লিটন (০) ও মুশফিক (৩৬) দ্রুত বিদায় নিলে বাংলাদেশ মুহূর্তেই ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে ৬ উইকেটে ৩০৮ রানে পরিণত হয়।

শান্ত, লিটন ও মুশফিকের উইকেট নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তিন তারকা পেসার জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। তাঁদের আউটের ধরন একই রকম। তিনটিতেই দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ ধরেন স্টিভ স্মিথ। উইকেটের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তানজিদ তামিম বলেন, ‘আমি যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যাটিং করেছি, উইকেটটা খুব ভালো ছিল। এখন শেষে যে রকম আপনার হাসান এবং মিরাজ ভাই ব্যাটিং করছেন। দেখে ভালোই মনে হয়েছে। তবে তারা (অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা) অনেক টাইট লাইনে বোলিং করছে। আমাদের কাছে মনে হয় যে যতক্ষণ পর্যন্ত বেশি ব্যাটিং করতে পারব, ততক্ষণ আমাদের দলের জন্য ভালো।’

টস জিতে ডারউইনে প্রথম টেস্টে আগে ব্যাটিং নিয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথের ৭১ রান ছাড়া বলার মতো কিছু নেই অজিদের ইনিংসে। বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন। মিরাজের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে এরই মধ্যে ৪৩ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়ে ফেলেছেন হাসান।

প্রথম ইনিংসে ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রানে বাংলাদেশ শেষ করেছে দ্বিতীয় দিনের খেলা। তানজিদ হাসান তামিম করেছেন ১৯৭ বলে ১০১ রান। ৮ চার ও ১ ছক্কা মেরেছেন তিনি। মিরাজ ও হাসান ৩২ ও ১৩ রানে ব্যাটিং করছেন।