ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। কানাডা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে এনেছে আইসিসি। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু)।
ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, ক্রিকেট কানাডার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এনেছে আইসিসি। অভিযোগের একটি ঘটনা নাকি ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঘটেছে। ‘করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্রে এই অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়েছে—যা তৈরি করেছে কানাডার অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘দ্য ফিফথ এস্টেট’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার একটি ওভার তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৭৩ রান করে কানাডা। এরপর বোলিং করতে নেমে শুরুতে দলটির পেসাররা ভালো বোলিং করলেও পঞ্চম ওভারে ১৫ রান দেন বাজওয়া। ওই ওভারে ছিল একটি নো-বল ও লেগ সাইডে করা ডেলিভারি থেকে দুইটি ওয়াইড—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কানাডার সাবেক কোচ খুররম চোহান দাবি করেছেন, বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টার অভিযোগও তুলেছেন। আরেক সাবেক কোচ পুবুদু দাসানায়েকে অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল নির্বাচন নিয়ে আপত্তি জানানোয় তাকে চুক্তি বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আকসু। আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রতিরোধ এবং তদন্ত—এই তিনটি ধাপে কাজ করে এবং ক্রিকেটের স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের অন্তর্বর্তীকালীন জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, ‘সিবিসি প্রচারিত অনুষ্ঠান সম্পর্কে আকসু অবগত। আকসু এই অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থানে নেই। আইসিসি সদস্য দেশগুলোর প্রশাসনিক বিষয়গুলো, যেখানে সেগুলো আইসিসির এখতিয়ারভুক্ত, সেখানে আইসিসি তার সাধারণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসারে বিবেচনা করে থাকে।’
এফগ্রেভ আরও যোগ করেন, ‘আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট তিনটি মূল কাজ পরিচালনা করে: গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রতিরোধ ও শিক্ষা এবং তদন্ত। এই কাজগুলো একই সঙ্গে পরিচালিত হয় এবং যেখানেই খেলার সততা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্বাস করার মতো বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি থাকে, সেখানেই এগুলো প্রয়োগ করা হয়।’