সরকারের হস্তক্ষেপে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) ভেঙে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা তো কাজ করছিলই। কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে সেই শঙ্কা থেকে অনেকটাই মুক্ত। আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার সঙ্গে সভায় ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এসএলসির নবগঠিত কমিটির।
আইসিসি ডেপুটি চেয়ারম্যান খাজা কদিন ধরে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছিলেন। এসএলসিতে সরকারের নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়ে আইসিসির কী প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত, তা নির্ধারণ করতে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। ক্রিকইনফো আজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এসএলসির সঙ্গে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান খাজার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক আলোচনা করেছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দিয়েছেন নতুন এসএলসি কমিটির একজন সদস্য।
শ্রীলঙ্কা সফরের সময় খাজা শুধু এসএলসির নবগঠিত কমিটির সঙ্গে দেখা করেননি। লঙ্কান রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গেও দেখা করেন। এই দিসানায়াকে আগের বোর্ডকে অপসারণ করে নতুন কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছিল। নবনিযুক্ত ৯ সদস্যের কমিটির এক ব্যক্তি বলেন, ‘এসএলসির নতুন প্রশাসকরা আশাবাদী যে আইসিসি বোর্ডটিকে নিয়মিত পূর্ণ সদস্য হিসেবেই বিবেচনা করবে।’
অতীতে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে আইসিসি এসএলসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল। ২০২৩ সালে “অতিরিক্ত সরকারি হস্তক্ষেপ”-এর অভিযোগে এসএলসিকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যার ফলে ২০২৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শ্রীলঙ্কা থেকে সরে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিল। তবে খাজা এবার যা বলেছেন, তাতে নিষিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে।
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) কর্মকর্তাদের আগেই সরে দাঁড়াতে বলেছিল দেশটির সরকার। শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো। সরকারি হস্তক্ষেপে ২৮ এপ্রিল ভেঙে গেল এসএলসি। এরপর ৩০ এপ্রিল তিন সাবেক ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা, সিদাথ ওয়েত্তিমুনি, রোশন মহানামাসহ ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক সংসদ সদস্য ইরান বিক্রমরত্নেকে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণার পর ওয়েত্তিমুনি এসএলসির শাসনব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কারের অঙ্গীকার করেছেন।