শেষ ব্যাটার হিসেবে সিলেটে আজ মুশফিক যখন আউট হলেন, তখন ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ ধরে মোহাম্মদ আব্বাস এমনভাবে উদযাপন করলেন, যেন তাঁরা দমবন্ধ অবস্থা থেকে বেঁচে গেছেন। কারণ, চার নম্বরে নামা মুশফিককে যে কিছুতেই আউট করা যাচ্ছিল না। যখন তিনি আউট হয়েছেন, তখন ৪৩৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে তাইজুল ইসলামের আক্ষেপ, স্কোরবোর্ডে আরও একটু রান হলে ভালো হতো।
প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিডটাই মূলত বাংলাদেশকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২.২ ওভারে ৩৯০ রানে আউট হলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্যটা হয়ে যায় ৪৩৭ রান। ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে নেমে পাকিস্তান ২ ওভারে কোনো রান, কোনো উইকেট না হারিয়ে আজ তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তাইজুল বলেন, ‘এখানে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কোনো বিষয় না। আরও একটু লম্বা করতে পারলে হয়তোবা দলের জন্য ভালো হতো। যতই চতুর্থ ইনিংস হোক, উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। আমরা যদি জুটি বড় করতে পারতাম, হয়তোবা আরও ভালো হতো।’
সিলেট টেস্টে এখনো বাকি দুই দিন। বৃষ্টি বাগড়া না দিলে পূর্ণ ১৮০ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাচ্ছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানে অলআউট হলেও দলটির বোলিং কোচ উমর গুলের আশা, রান তাড়া করে জেতার সামর্থ্য রয়েছে তাঁদের শিষ্যদের। আজ তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটে সবই সম্ভব। এখনো দুই দিন বাকি। যদি পুরোটা সময় খেলতে পারি, তাহলে জয়ের সুযোগ তৈরি হবে। ড্র করতে নয়। রান তাড়া করতে প্রস্তুত আমরা।৪৩৭ রান তাড়া করতে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে।’
গুলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে তাইজুলও বলছেন, ‘ম্যাচ এখনো ফিফটি ফিফটি অবস্থায় রয়েছে।’ তবে তাইজুলের মতে পাকিস্তানের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকলেও বোলিং ঠিকঠাক হলে ম্যাচ বাংলাদেশের কাছ থেকে বের করা সম্ভব। বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার বলেন, ‘দিন শেষে আমাদের লক্ষ্যটাও দেখতে হবে। তারা যখন লক্ষ্য (৪৩৭) দেখবে, তখন তাদের মাথায় অনেক কিছু কাজ করতে পারে। তো উইকেট যেরকম ভালো আছে, তাতে আমাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে হবে। এখানে যারাই ভালো করবে, তাদের দিকে হয়তোবা ম্যাচটা আসার সম্ভাবনা বেশি। আমার কাছে মনে হয় যে শৃঙ্খল বোলিং থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
দ্বিতীয় ইনিংসে চার নম্বরে নেমে শেষ ব্যাটার হিসেবে ১৩৭ রানে আউট হয়েছেন। সপ্তম উইকেটে তাইজুল-মুশফিক ৭৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে ৩৯৬ রানে। প্রথম ইনিংসে লিটন অনেকবার তাইজুলকে স্ট্রাইক দিতে না চাইলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিক সিঙ্গেল নিয়ে তাইজুলকে খেলতে দিয়েছেন বারবার।
২৩৩ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ১৩৭ রান করে মুশফিক আউট হওয়ার পরও কিছুটা হতাশ ছিলেন। হয়তো স্কোরটা আরেকটু বড় হতে না পারার হতাশা কাজ করেছে। এ ব্যাপারে তাইজুল বলেন, ‘আমরা যদি স্কোরবোর্ডে আরও ২০, ৩০, ৪০ রান যোগ করতে পারতাম, তাহলে দলের জন্য ভালো হতো। হয়তোবা এর থেকে আসলে হতাশার কিছু নেই এখানে। কারণ, সব সময় শতভাগ দেবেন ব্যাপারটা এমনও না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমনটা হতেই পারে। তবু আমার কাছে মনে হয় যে সে জায়গাটা উন্নতি করার জায়গা আছে।’
বাংলাদেশের দেওয়া ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে পারলে টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি গড়বে পাকিস্তান। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৫ সালে। ১১ বছর আগে পাল্লেকেলেতে লঙ্কানদের দেওয়া ৩৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল পাকিস্তান। তখন পাকিস্তান করেছিল ৩ উইকেটে ৩৮২ রান। এবার সিলেটে জিতলে ১১ বছরের রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি সিলেটে দ্বিতীয় দল হিসেবে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের কীর্তি গড়বে পাকিস্তান। এই মাঠে গত বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে।