২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ঐতিহাসিক হলেও শেষটা সেভাবে হয়নি। ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে ভরাডুবি হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের। সদ্য সমাপ্ত সিরিজ থেকে শিখে এখন সামনে এগোনোর পরিকল্পনা করছে শান্তর দল।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার পর শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজদের নিয়ে আশা-প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়, তাও আবার তাদের মাঠে—বাংলাদেশের জন্য সেটা কত বড় অর্জন হতো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে শান্তর দল। অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা ম্যাকাইতে মাত্র ৭৫০ বলেই শেষ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবাল সামাজিক মাধ্যমে বিশাল এক পোস্ট দিয়েছেন। নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা সিরিজটি ভালোভাবে শেষ করতে পারিনি। সেটা সত্যি বলতে হতাশাজনক। বিশেষ করে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টেস্ট সিরিজের শুরুটা যেভাবে করেছিলাম, সেই বিবেচনায় দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। আমরা আমাদের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেব। নেতিবাচক বিষয়গুলো পেছনে ফেলে রেখে ইতিবাচক দিকগুলো সঙ্গে নিয়ে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখব।’
সবশেষ ২০০৩ সালে যখন বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া, সেখানে শান্ত-মুশফিকুর রহিমদের খেলা তো দূরে থাক। ২৩ বছর আগে তাঁদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকই হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে নেমে দুই ম্যাচের সিরিজ ড্র করে ১-১ সমতায়। প্রথম টেস্টে হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। যার মধ্যে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন। আর ম্যাকাইতে সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝে একমাত্র উজ্জ্বল শরীফুল ইসলাম ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে বিদেশে টেস্টে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের কীর্তি গড়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ১-১ সমতায় শান্ত-মুশফিকদের টেস্ট সিরিজ ড্র করাটা অনেক কৃতিত্বপূর্ণ মনে করেন নাফিস। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রথম টেস্টে ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, কোনো কৃতিত্বই আমরা খাটো করতে পারি না। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে সেটি ছিল অসাধারণ এক জয়। আর সেই পারফরম্যান্স আমাদের সবার জন্যই বিশেষ হয়ে থাকবে। এই ফল আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগায়। এই সফর থেকে আমরা ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েই ফিরছি। কারণ, ইতিবাচক মানসিকতাই মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।’
ডারউইনে গত ১৬ আগস্ট জয়ের পর গ্যালারি থেকে ভেসে আসে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগান। ঐতিহাসিক টেস্ট জিতে প্রবাসী দর্শকদের সঙ্গে মিরাজের ছবি তোলার ঘটনা ভাইরাল। প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নাফিস লিখেছেন, ‘ডারউইন ও ম্যাকেতে যাঁরা আমাদের পাশে ছিলেন, সেই সব বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রতি আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানাতে চাই। আপনাদের সমর্থন ছিল অকৃত্রিম, আবেগপূর্ণ এবং আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। আপনাদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমরা দারুণ উপভোগ করেছি, আর আপনাদের উৎসাহ দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আপনাদের সমর্থনের জন্য আবারও ধন্যবাদ।’
ম্যাকাইতে ভরাডুবির পরও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আগের মতোই চার নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর শান্তর দলের সফলতার হার এখন ৫৫.৫৬ শতাংশ। ৬ ম্যাচে ৩ জয়, ২ হার ও ১ ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, মুশফিক, সৈয়দ খালেদ আহমেদরা।