চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আজ বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দর্শকদের ভিড় ও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সাইফ হাসান-পারভেজ হোসেন ইমনদের ব্যাটিংয়ে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা জয় শেষে উচ্ছ্বাস করার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু শেষের দিকের ব্যর্থতায় পরাজিত দলেই থাকতে হলো বাংলাদেশকে। ৭ রানে জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়া।
গত পরশু চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টি হেরে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল বাংলাদেশের। সিরিজ জিততে হলে স্বাগতিকদের শেষ দুই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় তা আর সম্ভব হয়নি। ৭ রানে হেরে সিরিজটাও আগেভাগেই খুইয়ে ফেলল বাংলাদেশ। পরশু চট্টগ্রামে নিয়মরক্ষার তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া।
১৯৭ রানের লক্ষ্যে নামা বাংলাদেশের স্কোর ছিল একটা পর্যায়ে ১২.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১৩০ রান। হাতে ৮ উইকেট নিয়ে ওভারপ্রতি ৯.১৪ রানরেট সমীকরণ কঠিন তো কিছু নয়। উইকেটে তখন দুই সেট ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর শেষ ৪৪ বলে ৬৭ রানের সমীকরণ মেলানো আস্তে আস্তে কঠিন হয়ে পড়ে। ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে অ্যারন হার্ডিকে কাভারের ওপর দিয়ে তুলে মারতে যান ইমন। টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়া বল কাভার থেকে উল্টোদিকে দৌড়ে ক্যাচ ধরেন মার্শ।
২২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬ রান করেন ইমন। তিনি আউট হওয়ার পরের ওভারেই সাইফকে ফেরান বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিস। ইমন, সাইফ দুজনের ক্যাচই ধরেন মার্শ। সাইফ ৩৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪২ রান করে ফিরেছেন।
হাতের নাগালে থাকা ম্যাচের সমীকরণ বাংলাদেশের জন্য একটা পর্যায়ে হয়ে যায় ৩ বলে ১৮ রান। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে হার্ডিকে ছক্কা মেরে আশা জাগিয়েছেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু পরের বলে হৃদয়ের ব্যাটের কানায় লেগে চার হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি। শেষ বলে হার্ডিকে ছক্কা মারতে গেলেও ডিপ মিড উইকেটে টিম ডেভিডের তালুবন্দী হয়েছেন হৃদয়। চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে তখন পিন পতন নীরবতা। বাংলাদেশের স্কোর থেমে যায় ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৯ রানে।
জয়ের লক্ষ্যে নেমে ঝোড়ো সূচনা করে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি। ২২ বলে ৪৮ রানের জুটি গড়েন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে তানজিদ তামিমকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে জুটি ভাঙেন ম্যাট রেনশ। ১৫ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় তামিম করেন ৩০ রান।
তিন নম্বরে নেমে সৌম্য সরকার ৩ চারে ঝোড়ো শুরুর আভাস দিয়েছেন। কিন্তু ৯ বলে ১৫ রান করে আউট হয়ে গেছেন। তামিম-সৌম্যর উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৬.৫ ওভারে ২ উইকেটে ৭৭ রান। এমন অবস্থায় পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসানের পাল্টা আক্রমণে জয়ের আশা দেখতে থাকেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। তৃতীয় উইকেটে তাঁরা (ইমন-সাইফ) ৩৬ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু তাঁদের জুটি ভাঙার পরই খেই হারায় বাংলাদেশ। পুরো ২০ ওভার খেললেও স্বাগতিকেরা ম্যাচ হেরেছে ৭ রানে। সাইফের ৪২ রানই বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে অ্যারন হার্ডি ৪ ওভারে ৪০ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন নাথান এলিস, ম্যাট রেনশ, অ্যাডাম জাম্পা ও ডেভিস। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হয়েছেন রেনশ। ৫২ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। বোলিংয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আজ টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে অস্ট্রেলিয়া পাওয়ারপ্লে (প্রথম ৬ ওভার) শেষে চাপে পড়ে যায়। ৬ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৪ রানে পরিণত হয় অজিরা। এমন অবস্থায় চতুর্থ উইকেটে টিম ডেভিড-ম্যাট রেনশর ৫০ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী জুটিতে সফরকারীরা বড় স্কোরের পথে অনেকটা এগিয়ে যায়।
ঝোড়ো জুটির পর দ্রুত ডেভিড (৪৫) আর নিখিল চৌধুরীর (৮) বিদায়ে অস্ট্রেলিয়া দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে ১৬ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫৪ রানে পরিণত হয়েছে। তবু রেনশ তাঁর তাণ্ডব চালিয়ে গেছেন। চার নম্বরে নেমে ৫২ বলে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৯ রান করে অপরাজিত থেকেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান করে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম ৪ ওভারে ২৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন আবদুল গাফফার সাকলাইন, রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান।