হোম > খেলা > ক্রিকেট

তদন্ত শেষের আগেই রিজওয়ানকে শাস্তি দিল পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক    

ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলার সুযোগ মিলছে না মোহাম্মদ রিজওয়ানের। ছবি: সংগৃহীত

সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না মোহাম্মদ রিজওয়ানের। পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজের মাঝপথে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এবার ঘরোয়া টুর্নামেন্টেও খেলতে পারছেন না পাকিস্তানি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে একটা মামলার তদন্ত চলছে।

রিজওয়ানের বিরুদ্ধে অনলাইনে বেটিং ও জুয়া-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ চলছে। এ কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাঁকে ২০২৬-২৭ মৌসুমের প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড ওয়ানে খেলার অনুমতি দিচ্ছে না। ফিটনেস টেস্টের ফল ছাপিয়ে তদন্তের ব্যাপারটাই এখানে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে বলে জিও সুপার গত রাতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমকে মূলত সূত্রগুলোই এসব তথ্য জানিয়েছে।

রিজওয়ানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়ার পর তিনি সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেড (এসএনজিপিএল) দলে যোগ দিয়েছিলেন। শান মাসুদের পরিবর্তে চলমান আট দলের প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্টে এই এসএনজিপিএলের অধিনায়ক হওয়ার কথা ছিল রিজওয়ানের।

এসএনজিপিএলের অনুশীলন সেশন শেষে দলের বৈঠকেও রিজওয়ান উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের বরাতে গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিজওয়ান। তবে পিসিবি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং চলমান তদন্তের কথা উল্লেখ করেছে।

পিসিবির নির্দেশনার তথ্য এসএনজিপিএলের ম্যানেজমেন্ট জানিয়ে দেয় রিজওয়ানকে। এরপর তিনি লাহোরের উদ্দেশে রওনা হন। লাহোরে পৌঁছানোর পর ৩৪ বছর বয়সী এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে (এনসিএ) অনুশীলনের অনুমতি চেয়ে পিসিবির কাছে আবেদন করেন। পাকিস্তান বোর্ড তাঁকে সেই অনুমতিও দেয়নি বলে জানা গেছে।

ভেতরের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে পিসিবির নির্দেশনার আগেই এসএনজিপিএল রিজওয়ানের ফিটনেস পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত ছিল। যা ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজ শেষে ফেরা অন্য কোনো জাতীয় ক্রিকেটারকে করতে হয়নি। উইকেটরক্ষক ব্যাটারের ঘনিষ্ঠ সূত্র অনুযায়ী রিজওয়ান তাঁর নিজ এলাকা পেশোয়ারে অনুশীলন করছেন।

রিজওয়ানের বিরুদ্ধে জাতীয় সাইবার ক্রাইম তদন্ত সংস্থার (এনসিসিআই) তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলছে। এই অবস্থায় তাঁকে হয়রানি না করতে এনসিসিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন লাহোর উচ্চ আদালত। তবে অনলাইনে বেটিং ও জুয়া-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালু রাখার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রিজওয়ানের করা একটি পিটিশন খারিজ করে লাহোর উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলাম এই লিখিত আদেশ জারি করেছেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী এনসিসিআইএ রিজওয়ানের কথিত অনলাইন বেটিং ও জুয়া-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের বিষয় তদন্ত করছে। সরকারের আইনজীবী আদালতকে জানান, বিষয়টি ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন (পিসিইএ) ২০১৬-এর ১৪ ধারার আওতায় পড়ে। এই ধারাটি অবৈধ আর্থিক সুবিধা অর্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত।