হোম > খেলা > ক্রিকেট

বাজপাখির মতো ক্যাচ ধরে লিটনের বিশ্ব রেকর্ড

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

বাজপাখির মতো ক্যাচ ধরেছেন লিটন দাস। তাঁর অবিশ্বাস্য ক্যাচে বাংলাদেশও পেয়ে যায় উইকেট। ছবি: সংগৃহীত

বাঁ দিকে বাজপাখির মতো উড়ে ছোঁ মেরে বল লুফে নিলেন লিটন দাস। যেন নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। অবিশ্বাস্য ক্যাচ ধরার পর তাইজুল ইসলাম-মেহেদী হাসান মিরাজরা এসে লিটনকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করলেন। ইবাদত হোসেন চৌধুরী স্যালুট দিলেন ইকরাম আলী খিলকে।

ইকরামও কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রকাশ করলেন হতাশা। আফগানিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটারের জন্য যেটা হতাশার, বাংলাদেশের জন্য সেটাই স্বস্তির। ওভারের পর ওভার বোলিং করে যখন কিছুতেই আফগানিস্তানের উইকেট ফেলা যাচ্ছিল না, লিটনের অবিশ্বাস্য ক্যাচে উইকেটটা পেয়ে যায় বাংলাদেশ। তাতেই গড়ে ফেললেন বিশ্ব রেকর্ড। এক টেস্টে ৯ ডিসমিসালের পাশাপাশি সেঞ্চুরি-ফিফটি করেছেন।

লিটনের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ভেঙে গেছে ৬০ বছরের পুরোনো রেকর্ড। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে ৮ ডিসমিসাল করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসে। সেবার প্রথম ইনিংসে ৬৯ রান করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮২ রান করেছিলেন। লিটন এবার আবুধাবিতে প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১০২ রান। লিটনের ৯ ডিসমিসালের মধ্যে আটটিই ক্যাচ এবং একটা স্টাম্পিং।

আবুধাবি টেস্ট জিততে বাকি দুই সেশনে আফগানিস্তানকে করতে হবে ২৭৬ রান। বাংলাদেশের তুলতে হবে ৬ উইকেট। সেদিকউল্লাহ আতাল ৬৬ রানে ব্যাটিং করছেন। ২১৬ বলের ইনিংসে ২ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছেন। ইসমাত আলম ৯ বল খেলে এখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি। পঞ্চম দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৯ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৩ রান করেছে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩২ রানে আফগানিস্তান আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে। দ্রুতই হারাতে পারত আরও একটা উইকেট। ৫৩তম ওভারের তৃতীয় বলে মেহেদী হাসান মিরাজের বল ডিফেন্স করতে গিয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন আতাল। তবে তানজিদ হাসান তামিম তা মিস করেছেন।

তামিম ক্যাচ মিস করার পরের বলেই ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। ৫৩তম ওভারের চতুর্থ বলে মিরাজকে মিড অনে ঠেলে সিঙ্গেল নেন আতাল। তবে আতালের সঙ্গী শাহিদীর শরীর আর সায় দিল না। মাঠেই বসে পড়া অবস্থায় শাহিদীর চিকিৎসা করতে থাকেন ফিজিওরা। দ্রুতই দুই বদলি খেলোয়াড়ের সহায়তায় আফগানিস্তানের বাঁহাতি ব্যাটারকে উঠিয়ে নেওয়া হয়। মাঠ ছাড়ার সময় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বের হতে থাকেন তিনি

শাহিদীর নামের পাশে লেখা আহত অবসর। মানে তাঁর আরও একবার নামার সুযোগ আছে। তবে আফগান বাঁহাতি ব্যাটারের অবস্থা সন্তোষজনক নয়। ড্রেসিংরুমে যাওয়ার সময়ও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা গেছে শাহিদীকে। ৩৩ বলে ২ চারে করেন ২০ রান।

শাহিদীর পরিবর্তে নামেন ইকরাম। আতাল আর তিনি বাংলাদেশের পরীক্ষা নিতে থাকেন। মাঝেমধ্যে চার-ছক্কা মারলেও তাইজুল-মিরাজ-নাঈম হাসানদের একের পর এক বল ডিফেন্স করতে থাকেন তাঁরা (আতাল-ইকরাম)। বেশ কয়েকবার আতাল-ইকরামের জুটি ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। একবার তো বাংলাদেশ রিভিউই নষ্ট করে ফেলে। ৬০তম ওভারের শেষ বলে ইকরামের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন ইবাদত। আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় রিভিউ নেন শান্ত। রিভিউতে দেখা যায়, বল অল্পের জন্য স্টাম্প মিস করেছে।

ব্যক্তিগত ৬৬ রানের সময় আতাল একবার আউট হতে হতে বেঁচে গিয়েছেন। ৭৩তম ওভারের চতুর্থ বলটি করেন তাইজুল। ভারসাম্য হারিয়ে আতালের ব্যাট প্রায় স্টাম্প ছুঁয়েই ফেলছিল। কিন্তু অল্পের জন্য বেঁচে যান। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৭৮তম ওভারের প্রথম বলে ইবাদতের শর্ট বল পুল করতে যান ইকরাম। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে নিশ্চিত বাউন্ডারিকে ক্যাচে পরিণত করেন।

ইকরাম আউট হতেই ভেঙে যায় চতুর্থ উইকেটে আতালের সঙ্গে গড়া তাঁর ৬৬ রানের জুটি। ৬৯ বলে ৫ চারে ৩৩ রান করেন ইকরাম। মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে শাহিদী ২৬ রানের জুটি গড়েন আতালের সঙ্গে।